সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২৬
গ্যাসের সংকট, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কার্বন নিঃসরণ কমানোর শর্ত—এই তিন বড় চ্যালেঞ্জ সামলাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের দিকে দ্রুত ঝুঁকছে। এতে দিনে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা কারখানার কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে এবং মোট চাহিদার ৫ থেকে ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ মিলছে, যা জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাচ্ছে। ডিবিএল, প্রাণ-আরএফএল, আকিজ বশির, মেঘনা গ্রুপ, ওয়ালটন ও হা-মীম গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো শত শত মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করছে। আইইইএফএ (IEEFA)-এর মতে, দেশের বড় শিল্পকারখানাগুলোর ছাদে প্রকৃত সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা ইতিমধ্যেই ৬৬৭ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে, যা সার্বিকভাবে ১ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে।
উৎপাদন খরচের বিশাল পার্থক্যই এই বিনিয়োগ বাড়ার মূল কারণ—জাতীয় গ্রিডে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১২.৭৩ থেকে ১৬ টাকা হলেও সৌরবিদ্যুতে তা মাত্র ৪ থেকে ৮ টাকা। পাঁচ বছর আগের তুলনায় প্যানেল স্থাপনের খরচ ৫ কোটি টাকা থেকে কমে ৪ কোটি টাকায় নেমে এসেছে এবং সাম্প্রতিক শুল্ক ছাড়ের কারণে এটি আরও ১৫ শতাংশ কমতে পারে। তবে মূলধন ও ব্যাংক ঋণের কড়াকড়ি মাঝারি শিল্পগুলোর জন্য এখনও বড় বাধা। সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে সিপিডি (CPD)-র তথ্যমতে কেবল তৈরি পোশাক খাতের ছাদগুলো থেকেই ১,৭৬৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, যা ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যপূরণে মূল ভূমিকা রাখবে।


