জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যার অভিযোগ: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের আবেদন

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর কল্যাণপুরে ২০১৬ সালের আলোচিত ‘জাহাজ বাড়ি’ অভিযান নিয়ে এবার সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। যাকে এতদিন সফল জঙ্গিবিরোধী অভিযান বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়েছিল, তাকে এখন ‘সাজানো নাটক’ ও ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করা হচ্ছে। এই লোমহর্ষক ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)-এর তৎকালীন প্রধান মনিরুল ইসলামসহ ৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জ গঠনের আবেদন জমা পড়েছে।

কী বলা হয়েছে অভিযোগে?

বিচারিক আদালতে জমা পড়া এই আবেদনে বলা হয়েছে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ওই ৯ জন তরুণকে আটকে রেখে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, তৎকালীন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অতিউৎসাহী শীর্ষ কর্তা নিজেদের ফায়দা লুটতে এবং সমাজে একটি ভয়ের রাজত্ব কায়েম করতে এই ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়েছিলেন। তরুণদের হত্যা করার পর এটিকে ‘জঙ্গি আস্তানা’ ও ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বলে গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়।

তদন্তের নতুন মোড় ও নেপথ্যের রহস্য:

‘ক্রাইম তালাশ’-এর মতো অনুসন্ধানী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এই ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতার জায়গা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তোলে। রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে কীভাবে একটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ নাম দিয়ে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, চার্জ গঠনের এই আবেদন তারই আইনি চ্যালেঞ্জ।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে এটি হবে রাষ্ট্রীয় মদদে সংঘটিত অন্যতম বড় একটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা। ওই রাতে আসলেই কী ঘটেছিল কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের সেই ৫ তলা ভবনে? তরুণরা কি সত্যিই বড় কোনো হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, নাকি তারা ছিল কেবলই একটি সাজানো চিত্রনাট্যের বলির পাঁঠা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এখন নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের দাবি উঠেছে। আদালত এই আবেদন আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *