জাতীয় ডেস্ক | সংবাদ সারাদিন
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মরদেহ রাজধানীর তুরাগ নদ থেকে উদ্ধারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময় গণভবনের পেছন থেকে ধারণ করা একটি আলোচিত ভিডিও প্রকাশের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল—এমন দাবি ও জল্পনাকে কেন্দ্র করে মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে এসব দাবির সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র এখনো নিশ্চিত নয়।
উত্তরখান ও টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ২৭ অক্টোবর রাত থেকে নিখোঁজ থাকার পর ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
সামাজিক মাধ্যমে সহপাঠীদের প্রশ্ন
তাহসিফ সৌরির সাবেক সহপাঠী ও পরিচিতদের কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ঘটনাটির পেছনে দুর্ঘটনা বা ব্যক্তিগত বিরোধের বাইরে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
কে এস এম ইনতিসার ইনজিমাম নামে তাঁর এক সাবেক সহপাঠী ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, ৫ আগস্টের আলোচিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে তাহসিফের সম্পৃক্ততা ছিল। ওই ভিডিও প্রকাশের পর তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও মানহানিকর বক্তব্য ছড়ানো হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ওই সহপাঠীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাহসিফের মৃত্যুকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার আগে ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে তাঁর এসব বক্তব্য ব্যক্তিগত দাবি; এগুলোর পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
চাকরিচ্যুতির তথ্য সামনে আনলেন সাংবাদিক
অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হওয়া চার কর্মকর্তার মধ্যে তাহসিফ সৌরিও ছিলেন। মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে তিনি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
মৃত্যুর কারণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত জরুরি
তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর সঙ্গে ৫ আগস্টের ভিডিও প্রকাশের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবি, সহপাঠীদের সন্দেহ কিংবা চাকরিচ্যুতির তথ্য—কোনোটিই এককভাবে হত্যাকাণ্ড বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রমাণ নয়।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের আলামত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও তদন্তের ফল পাওয়া গেলে ঘটনাটি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।


