জুলাই জাতীয় সনদের বর্ষপূর্তিতে জামায়াতের আলোচনা সভা আজ, সভাপতিত্ব করবেন শফিকুর রহমান

Table of content

Table of content

জাতীয় ডেস্ক | সংবাদ সারাদিন

জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে সকাল সাড়ে ১০টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, পেশাজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমেদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এ তথ্য জানান।

কী এই জুলাই জাতীয় সনদ?

জুলাই জাতীয় সনদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার মাধ্যমে তৈরি একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, শাসনব্যবস্থা ও সাংবিধানিক কাঠামো সংস্কারের বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে সংস্কার প্রস্তাবগুলো সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

জুলাই জাতীয় সনদের বিভিন্ন প্রস্তাব কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে সাংবিধানিক সংস্কারের পদ্ধতি, প্রস্তাব বাস্তবায়নের কাঠামো এবং সংসদীয় প্রক্রিয়ার ভূমিকা নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের অবস্থানে পার্থক্য দেখা গেছে।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে সংসদের বিশেষ কমিটি জানিয়েছিল, সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দল, সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সাংবিধানিক সংশোধনের বিষয়গুলো এগিয়ে নেওয়া হবে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে সনদের প্রতিশ্রুতি ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।

আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে বাস্তবায়ন ও সংস্কার

বর্ষপূর্তির এই আলোচনা সভায় জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকার, রাষ্ট্রীয় সংস্কারের অগ্রগতি এবং সনদ বাস্তবায়নের পথ নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য গুরুত্ব পেতে পারে। তবে সভায় কারা কী বক্তব্য দেবেন এবং সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে নতুন কোনো প্রস্তাব বা সিদ্ধান্ত আসবে কি না, তা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *