সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৬
এনসিপির গাড়িবহরে হামলা: ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি, সংবাদ সারাদিন:
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলা, ভাঙচুর ও নেতা-কর্মীদের মারধরের অভিযোগে জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অর্থাৎ মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ১১১ জন।
বুধবার, ২৯ জুলাই দিবাগত রাত একটার দিকে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের বাদী হয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন মামলা নথিভুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বুধবার রাত ৯টার দিকে হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়কের বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। পরে ওই অভিযোগের ভিত্তিতে সদর মডেল থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
মামলায় প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে মারধর করে গুরুতর জখম, চুরি এবং গাড়িসহ বিভিন্ন সম্পদের ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রধান আসামি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন ছাড়াও মামলার নামীয় আসামিরা হলেন—বৃন্দাবন সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আসিফুল ইসলাম, পৌর ছাত্রদল নেতা মুজাক্কির হোসেন, ছাত্রদল নেতা এম এইচ শিমুল, আল সাইমন, মাহফুজ চৌধুরী, ইশতিয়াক রহমান, শেখ সাব্বির, নাজমূল হোসেন ও রক্সি ইসলাম।
গত মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা সার্কিট হাউসের দিকে যাওয়ার সময় তাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িবহরটি হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদের সামনে পৌঁছালে একদল যুবক হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সারজিস আলমসহ এনসিপির কয়েকজন নেতা-কর্মী পাশের সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় আশ্রয় নেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এনসিপির অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে তাদের গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছেন। সারজিস আলম দাবি করেছেন, হামলায় তিনিসহ এনসিপির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন এবং বহরে থাকা একাধিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হামলার প্রতিবাদে পরদিন হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে এনসিপি। অন্যদিকে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলও পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করলে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।
বুধবার মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গল ও বাহুবলের বিভিন্ন স্থানে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ। বহরে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা ছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য, সম্ভাব্য সংঘর্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতেই তাদের হবিগঞ্জ শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে আলোচনার মাধ্যমে এনসিপির প্রতিনিধিদল কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়।
অন্যদিকে জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এনসিপির নেতাদের বক্তব্যে স্থানীয় মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল এবং ক্ষুব্ধ জনতা গাড়িবহরে হামলা করেছে। ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি মামলাটিকে পূর্বপরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন। তবে মামলার অভিযোগ এবং পাল্টা বক্তব্য এখন তদন্তের বিষয়। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযুক্তদের দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।


