অস্ট্রেলিয়া সফরে নাহিদ রানাকে না পেয়ে হতাশ বাশার

Table of content

Table of content

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৬

উপশিরোনাম: বাঁ পাশের পেশিতে গ্রেড-২ চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন বাংলাদেশের গতিময় পেসার নাহিদ রানা।

দীর্ঘ ১৮ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। গুরুত্বপূর্ণ এই সফরের আগে বড় ধাক্কা খেয়েছে টাইগারদের পেস বোলিং বিভাগ। বাঁ পাশের পেশিতে গ্রেড-২ পর্যায়ের চোট পাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। তাঁর মতো গতিময় বোলারকে না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।

জিম্বাবুয়ে সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলার সময় চোটে পড়েন নাহিদ। পরবর্তী স্ক্যানের প্রতিবেদনে তাঁর বাঁ পাশের পেশিতে গ্রেড-২ স্ট্রেইন ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে অন্তত ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে। ফলে আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠেয় দুই টেস্টে তাঁর খেলার সম্ভাবনা নেই।

নাহিদের চোটকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বললেন বাশার

নাহিদকে হারানো বাংলাদেশের জন্য বড় ক্ষতি বলে মনে করছেন হাবিবুল বাশার। প্রধান নির্বাচকের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্রুতগতির বোলারদের সম্পূর্ণভাবে চোটমুক্ত রাখা কঠিন। নাহিদের চোটটি দুর্ভাগ্যজনক হলেও তাঁকে জিম্বাবুয়ের টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলানোর সিদ্ধান্ত ছিল পরিকল্পনার অংশ।

বাশার জানান, অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে নাহিদকে ম্যাচের মধ্যে রাখা এবং প্রয়োজনীয় বোলিং অনুশীলন দেওয়ার উদ্দেশ্যেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলানো হয়েছিল। তিনি স্বীকার করেন, চাইলে নাহিদকে ওই সিরিজ থেকে বিশ্রাম দেওয়া যেত। তবে শুধু নেট অনুশীলনের ওপর নির্ভর না করে ম্যাচ খেলার মাধ্যমে তাঁকে প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের।

প্রধান নির্বাচক বলেন, একজন ক্রিকেটারকে পুরোপুরি বসিয়ে রেখে বড় সিরিজের জন্য প্রস্তুত করা সব সময় কার্যকর নয়। অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনে খেলার আগে নাহিদের ম্যাচ অনুশীলনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনাই শেষ পর্যন্ত চোটের কারণে বড় হতাশায় পরিণত হয়েছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন নাহিদ রানা

অস্ট্রেলিয়ার দ্রুত ও বাউন্সি উইকেটে নাহিদ রানার গতি বাংলাদেশের বড় অস্ত্র হতে পারত। ঘণ্টায় নিয়মিত ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বোলিং করতে সক্ষম এই পেসার সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছেন।

পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে পাঁচ উইকেট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন নাহিদ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজেও তাঁর গতির সামনে সমস্যায় পড়েছিলেন সফরকারী ব্যাটাররা। সেই ধারাবাহিকতায় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাঁকে ঘিরে বড় প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের।

অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে বাড়তি বাউন্স এবং গতিকে কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের চাপে রাখার সক্ষমতা রয়েছে নাহিদের। তাঁর অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশকে এখন বাকি পেসারদের নিয়েই বোলিং পরিকল্পনা সাজাতে হবে।

বিকল্প পেসারদের ওপর বাড়ছে দায়িত্ব

নাহিদ রানা ছিটকে যাওয়ায় তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, খালেদ আহমেদ ও অন্য পেসারদের ওপর দায়িত্ব আরও বাড়বে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজকে গুরুত্ব দিয়ে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তাসকিন। জাতীয় দলের প্রস্তুতিতে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতেই তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বাংলাদেশ দল এবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদকেও সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় রেখেছে। তবে এবাদতের ফিটনেস এবং দলে ফেরার সময় নিয়ে এখনো পর্যবেক্ষণ চলছে। নাহিদের অনুপস্থিতিতে অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় নিয়ে পেস আক্রমণ সাজাতে হবে নির্বাচকদের।

আগস্টে দুই টেস্ট

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হবে আগামী ১৩ আগস্ট। সিরিজটি আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫–২৭ চক্রের অংশ। দীর্ঘ ১৮ বছর পর এটি হবে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের প্রথম দ্বিপক্ষীয় টেস্ট সফর।

ডারউইনে প্রথম টেস্টের আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। অস্ট্রেলিয়াও সিরিজের জন্য শক্তিশালী দল গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও স্কট বোল্যান্ডকে নিয়ে তাদের পেস আক্রমণ সাজানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

নাহিদের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে বড় শূন্যতা তৈরি করলেও বাশার মনে করেন, হাতে থাকা পেসারদের ওপর আস্থা রাখতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে সফল হতে হলে শুধু গতির ওপর নির্ভর না করে সঠিক লাইন-লেংথ, ধারাবাহিকতা এবং পরিকল্পিত বোলিংয়ের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক সফরের আগে নাহিদ রানার ছিটকে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা। এখন নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ—তাঁর বিকল্প খুঁজে একটি কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ পেস আক্রমণ গড়ে তোলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *