সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই কূটনৈতিক বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ও বিপজ্জনক সংঘাতের পরিস্থিতি দ্রুত কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জোরালো আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার ফলে হরমুজ প্রণালিতে আটকেপড়া বাংলাদেশের বাণিজ্যিক কনটেইনার জাহাজগুলো সম্পূর্ণ নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধপীড়িত বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মজীবীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক সংঘাত, আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রবাসী রেমিট্যান্স প্রবাহ, সমুদ্রপথে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন এবং সম্ভাব্য বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট নিয়ে বাংলাদেশের গভীর উদ্বেগ ও প্রস্তুতির বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে স্থান পায়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন পরবর্তীতে গণমাধ্যমের কাছে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এই বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু নিশ্চিত করে জানান যে, বাংলাদেশ সবসময় যেকোনো আন্তর্জাতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয় এবং প্রয়োজনে যেকোনো বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ দেশের অবস্থান থেকে সংকটের স্থায়ী সমাধানে সংলাপের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে বাংলাদেশ গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশের বহু কৌশলগত অংশীদার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, চলমান সংঘাতের কারণে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং লক্ষাধিক প্রবাসিণীর জীবনজীবিকার ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা নিবিড়ভাবে বিবেচনা করেই আলোচনার টেবিলে স্থায়ী শান্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক জলবায়ু পরিবর্তন ফোরামে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান ও দাবিগুলোও বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে জলবায়ুর কারণে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোর জন্য বিশ্বব্যাংক ও উন্নত রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে দ্রুত ও পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি অত্যন্ত জোরালো বক্তব্য রাখেন। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে নদী ও খাল খনন কার্যক্রম জোরদার করা, দেশব্যাপী ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন, জ্বালানি খাতের নিরাপত্তায় নবায়নযোগ্য ও সৌর শক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা এবং পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক যানবাহন চালুর মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমিয়ে আনার ভবিষ্যৎ রূপরেখার কথাও এই বৈঠকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।


