আগামী ১২ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ৭ ধাপে হবে ইউপি ভোট

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫  সেপ্টেম্বর | আপডেট: ১৫  সেপ্টেম্বর ২০২৬  

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশের তৃণমূল পর্যায়ের শাসনব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বহুল কাঙ্ক্ষিত রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর থেকে দেশের বিভিন্ন ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই নির্বাচন তফসিলের প্রাথমিক রূপরেখা তুলে ধরেন। নির্বাচন কমিশনের এই যুগান্তকারী ঘোষণায় দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে আগামী ১২ নভেম্বর দেশের ৬৩ জেলার মোট ৮০টি উপজেলার অধীনস্থ সকল ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিশেষ প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার কারণে ঠাকুরগাঁও জেলার স্থানীয় সরকার বা উপনির্বাচনসমূহ এই প্রথম ধাপের অন্তর্ভুক্ত থাকছে না; ওই জেলাটি দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে স্থান পাবে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা, শারদীয় দুর্গোৎসব, পবিত্র রমজান মাস ও ঈদ উৎসবের মতো সামাজিক ও জাতীয় বিষয়গুলো অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে বিবেচনা করে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি মোট ৭টি সুশৃঙ্খল ধাপে সম্পন্ন করার রূপরেখা তৈরি করেছে কমিশন।

প্রাথমিক এই রোডম্যাপ অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণের পর দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপে আগামী ৩০ ডিসেম্বর ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর নতুন বছরের সূচনায় অর্থাৎ ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি চতুর্থ ধাপে, ৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপে, ২২ এপ্রিল ষষ্ঠ ধাপে এবং পরিশেষে ২৭ মে সপ্তম ও শেষ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনার আরও স্পষ্ট করেছেন যে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের আন্তঃবিভাগীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে এই প্রাথমিক সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত রূপ লাভ করবে। ওই বৈঠক থেকেই দেশের মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ২৭২টি ইউনিয়নের নির্বাচন চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন করার চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারিত হতে পারে। দলীয় প্রতীকবিহীন এই স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তিকে তৃণমূল স্তরে আরও দৃঢ় ও জনমুখী করে তুলবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *