খাদ্যের অপচয় কমানো ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মডেলের জন্য বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬ অর্জন
করপোরেট ডেস্ক | পর্যটন ও আতিথেয়তা
পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহারে উদ্ভাবনী উদ্যোগের স্বীকৃতি পেয়েছেন ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাখাওয়াত হোসেন। খাদ্যের অপচয় কমানো ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তাঁর উদ্ভাবিত একটি কাঠামোর জন্য তিনি বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬-এ ‘বর্ষসেরা টেকসই পর্যটন উদ্যোগ’ বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছেন।
খাদ্য অপচয় কমাতে ছয় ধাপের কাঠামো
শাখাওয়াত হোসেনের উদ্ভাবিত ও মেধাস্বত্বভুক্ত উদ্যোগটির নাম ‘খাদ্য ব্যয় সাশ্রয় ও নিয়ন্ত্রণে শাখাওয়াতের ছয়টি নিয়ন্ত্রণ ধাপ’। এর মূল লক্ষ্য খাদ্যের অপচয় কমানো, পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং সম্পদের আরও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা।
হোটেল ও রেস্তোরাঁ পরিচালনায় খাদ্য ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ধরনের কাঠামো বাস্তবায়নের মাধ্যমে অপচয় কমানো এবং পরিচালন কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রথমবারের মতো পর্যটন পুরস্কারের আয়োজন
বিশ্ব পর্যটন দিবস উদ্যাপনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কারের আয়োজন করে। গত ৩ অক্টোবর ঢাকার শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শাখাওয়াত হোসেনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
বাংলাদেশের পর্যটন, আতিথেয়তা, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি দিতে এবারের আয়োজনে ১৬টি বিভাগে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
জাতীয় পর্যায় থেকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নেওয়ার লক্ষ্য
পুরস্কার পাওয়ার পর শাখাওয়াত হোসেন বলেন, এই স্বীকৃতি তাঁর ছয় নিয়ন্ত্রণ ধাপ উদ্যোগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি কাঠামোটিকে বাংলাদেশের আতিথেয়তা খাতে জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে চান। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ চেইনেও এটি প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আতিথেয়তা খাতে ২৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা
মো. শাখাওয়াত হোসেনের আতিথেয়তা খাতে ২৫ বছরের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বর্তমানে দ্য ওয়েস্টিন ঢাকা, শেরাটন ঢাকা ও হানসার মালিক প্রতিষ্ঠান ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস পিএলসির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যটন ও আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করছেন এবং একই বিভাগে পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন।
তাঁর এই স্বীকৃতি দেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে টেকসই পরিচালনব্যবস্থা, খাদ্য অপচয় হ্রাস এবং উদ্ভাবনী ব্যবস্থাপনার গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে।


