ইরান যুদ্ধে ধুঁকছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি: ৬ মাসে জ্বালানিতে সাধারণ মার্কিনিদের বাড়তি গুণতে হলো ১০০ বিলিয়ন ডলার

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ০৮  সেপ্টেম্বর ২০২৬  

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাত ছয় মাসে গড়ালেও এর পরোক্ষ চরম খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত ৬ মাসে কেবল পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে অতিরিক্ত ১০০ বিলিয়ন (১০ হাজার কোটি) ডলার খরচ করতে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ‘ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

অর্থনৈতিক আঘাত ও খরচের পরিসংখ্যান:

পরিবারপ্রতি অতিরিক্ত চাপ: জ্বালানির পেছনে এই অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি ডলার খরচের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আনুমানিক ১৩ কোটি ১০ লাখ পরিবারের প্রতিটির ওপর গড়ে ৭৬৩ ডলার (প্রায় ৯০ হাজার টাকা) অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চেপেছে।

পেট্রোল ও ডিজেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি: সংঘাত শুরুর পর পেট্রোলের দাম ৩৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি গ্যালন ৪.১৫ ডলার (প্রতি লিটার ১.০৯ ডলার) দাঁড়িয়েছে। ডিজেলের দাম ৬০ শতাংশের বেশি বেড়ে সর্বকালের সব রেকর্ড ভেঙে গ্যালনপ্রতি ৫.৯০ ডলারে পৌঁছেছে।

রাজ্যভিত্তিক সর্বোচ্চ দর: আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে বর্তমানে পেট্রোলের দাম সবচেয়ে বেশি—প্রতি গ্যালন ৫.৮৫ ডলার। এছাড়া ওয়াশিংটন, হাওয়াই ও আলাস্কাতেও জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক উচ্চতায় ঠেকেছে।

খাদ্যপণ্য ও সার্বিক মূল্যস্ফীতি:

বাণিজ্যিক পরিবহন, কৃষিকাজের ট্রাক্টর, সার উৎপাদন এবং পণ্য সরবরাহে ডিজেল ব্যবহৃত হওয়ায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটগুলোতে খাদ্যপণ্যের দাম চড়া আকার ধারণ করেছে।

রাজনৈতিক চাপ ও ট্রাম্পের অবস্থান:

যুদ্ধ ৪ থেকে ৫ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রাথমিক আশ্বাস থাকলেও সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় মার্কিন প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র জনপ্রিয়তার সংকটে পড়েছেন। জনমনে ক্ষোভ বাড়লেও ট্রাম্প জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে দায় চাপিয়েছেন বহুজাতিক তেল কোম্পানিগুলোর ‘অতিরিক্ত মুনাফা লোটার’ প্রবণতার ওপর।

বিশ্লেষকদের মতে, এই জ্বালানি সংকট কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ নেই; আমদানিনির্ভর নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতেও এর ধাক্কায় বৈশ্বিক খাদ্যসংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *