আইএইএ-এর ৭০তম সাধারণ অধিবেশনে পরমাণু প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে বাংলাদেশের জোরালো অঙ্গীকার

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫  সেপ্টেম্বর | আপডেট: ১৫  সেপ্টেম্বর ২০২৬  

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর ৭০তম সাধারণ অধিবেশনে পরমাণু বিজ্ঞানের শান্তিপূর্ণ বহুমুখী ব্যবহার, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই বক্তব্য প্রদান করেন তিনি। সম্মেলনে বক্তৃতাকালে মন্ত্রী বাংলাদেশের পারমাণবিক খাতের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের অগ্রগতি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন।

বক্তব্যের শুরুতেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে আইএইএ’র টেকনিক্যাল কোঅপারেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ অভাবনীয় সুফল লাভ করেছে। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ২০২৬–২০৩২ মেয়াদের ‘কান্ট্রি প্রোগ্রাম ফ্রেমওয়ার্ক’ (সিপিএফ) দেশের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও গবেষণার ক্ষেত্রকে আরও বহুলাংশে প্রসারিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম বড় মাইলফলক হিসেবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান যে, প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিং বা জ্বালানি সংযোজনের কাজ সমাপ্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশ এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।

পারমাণবিক নিরাপত্তার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আপসহীন অবস্থানের কথা জানিয়ে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে পারমাণবিক বর্জ্য ও স্পেন্ট ফুয়েল ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত যৌথ কনভেনশনে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিই প্রমাণ করে যে দেশ কতখানি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল উপায়ে পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে। বিশেষ করে ক্যানসার চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়াতে আইএইএ-এর ‘রেজ অব হোপ’ বা আশার কিরণ উদ্যোগের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তরুণ গবেষকদের মেধা বিকাশ, জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন এবং বৈশ্বিক জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে একযোগে কাজ চালিয়ে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *