কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলা: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন ও জামিন শুনানির দিন ধার্য আজ

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

কক্সবাজারের টেকনাফে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে পৌর কাউন্সিলর একরামুল হককে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা চাঞ্চল্যকর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১১ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে আজ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলের এজলাসে এই গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই মামলায় ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া চারজন আসামি হলেন কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক কর্নেল (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে) আনোয়ার লতিফ খান।

অন্যদিকে, শেখ হাসিনাসহ পলাতক থাকা বাকি সাত আসামির তালিকায় রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ। গত ৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী পলাতক এই সাত আসামির পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত বা স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয় এবং একই সঙ্গে আজকের এই দিনে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া গত শুনানিতে মিফতাহ উদ্দিন, মাহবুব আলম ও আনোয়ার লতিফ খানের পক্ষে জামিন আবেদনের ওপর আসামিপক্ষের আইনজীবী তবারক হোসেনের দীর্ঘ শুনানি সমাপ্ত হওয়ায় আজ ট্রাইব্যুনাল তাদের জামিন বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন। বিগত ২৫ আগস্ট আদালত শেখ হাসিনাসহ সাত আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি শীর্ষ জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দিলেও নির্ধারিত ৭ সেপ্টেম্বর হাজিরার দিনে গ্রেপ্তার চারজন উপস্থিত থাকলেও বাকিরা আত্মসমর্পণ না করায় তাদের পলাতক দেখিয়ে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং এর আগে ২৬ জুলাই ট্রাইব্যুনাল-২ এই ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছিলেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আনীত সুনির্দিষ্ট অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১৮ সালের ২৬ মে মধ্যরাতে কক্সবাজারের টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটংয়ের সামনের সড়ক থেকে কাউন্সিলর একরামুল হককে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় এবং পরবর্তী এক ঘণ্টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র‍্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে তাকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জনপ্রিয় কাউন্সিলর এবং স্থানীয় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই বর্বরোচিত ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আটক, অপহরণ, বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে ঠান্ডা মাথায় হত্যা, অপরাধ সংঘটনে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা, সহায়তা ও খুনের নির্দেশ দেওয়ার মতো অত্যন্ত গুরুতর ও সুনির্দিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন পক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *