সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জন হাইপ্রোফাইল আসামিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কঠোর পুলিশি পাহাড়ায় কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক বেঞ্চে আজ এই চাঞ্চল্যকর মামলার আনুষ্ঠানিক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের এই কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে এবং এর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৭ জুলাই প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দাখিল করা মোট ৪১ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল-২, যেখানে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে আত্মসমর্পণের জন্য জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং একই সঙ্গে পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এই মামলার অভিযোগে মূলত দুটি প্রধান ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যার প্রথমটিতে ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরে সংঘটিত অভিযানে ৩২ জন মানুষের প্রাণহানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে এবং দ্বিতীয়টিতে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের মর্মান্তিক বিবরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এদিকে মামলার মূল কার্যক্রমের বাইরেও গাজীপুরের বিশিষ্ট অধ্যক্ষ আবুল হোসেনকে গুম করার অভিযোগে পুলিশের সিটিটিসি প্রধান আসাদুজ্জামান ও এডিসি ইশতিয়াকসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে পৃথক আরেকটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী রাশেদ খাঁন এই গুমের ঘটনার অভিযোগটি দায়ের করেছেন এবং ট্রাইব্যুনাল বর্তমানে তা খতিয়ে দেখছেন।


