সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সৌদি আরবের পবিত্র দুই নগরী মক্কা ও মদিনা সংলগ্ন অঞ্চলে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মুসলিম দেশগুলোর প্রধান আন্তর্জাতিক জোট অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)। ইসলাম ধর্মের পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা এবং সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত এই ধরনের আক্রমণকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সংস্থাটি। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওআইসি-র পক্ষ থেকে দেওয়া কড়া এই বিবৃতির কথা জানানো হয়, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
ওআইসির বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, পবিত্র স্থান, মসজিদ কিংবা বেসামরিক অবকাঠামোয় আঘাত হানার কোনো সুযোগ নেই এবং এ ধরনের জঘন্য অপরাধ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধের চরম পরিপন্থি। পবিত্র ভূমির নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে সৌদি আরব সরকারের গৃহীত সকল পদক্ষেপের প্রতি সংস্থাটি তাদের পূর্ণ সংহতি ও একাত্মতা প্রকাশ করেছে। এর আগে গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানায় যে, মক্কার আকাশসীমা লঙ্ঘন করার আগেই হুতিদের পাঠানো একটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন সফলভাবে আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে, যার ধ্বংসাবশেষ মক্কার দক্ষিণাঞ্চলে গিয়ে পড়ে। সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি একে মক্কার পবিত্রতার ওপর দ্বিতীয় দফার ব্যর্থ হামলা হিসেবে উল্লেখ করে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে, দুই পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা ও বিশ্বজুড়ে আগত কোটি কোটি মুসল্লির জীবন রক্ষা করাই তাদের কাছে সর্বোচ্চ ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা।
উল্লেখ্য, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিগত জুলাই মাস থেকে সংঘাতের মাত্রা পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ায় আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে খামিস মুশাইত, আবহা ও তায়েফ শহরে হুতিদের নির্বিচারে চালানো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত এবং বহু বাড়িঘর ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে চলা এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে ২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার পক্ষকে সমর্থন জানিয়ে আসছে। ওআইসির এই জোরালো অবস্থানের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হুতিদের এই ধরনের সামরিক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক চাপ আরও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


