‘চাঁদ আমাদের’ ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট, জাতিসংঘের চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে চাঁদের ভৌগোলিক ও আইনি মালিকানা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন পতাকার ছবির সঙ্গে ‘দ্য মুন ইজ আওয়ার্স’ বা ‘চাঁদ আমাদের’ শিরোনামে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা পোস্ট করেন ট্রাম্প। যদিও এটি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্বাহী আদেশ বা আইনি ঘোষণা নয়, তবুও মহাকাশে মার্কিন একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইনের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি জাতিসংঘের ১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ বা মহাকাশ চুক্তির দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, চাঁদ বা অন্যান্য কোনো মহাজাগতিক বস্তুকে নিজস্ব সার্বভৌমত্বের অংশ হিসেবে দাবি, দখল কিংবা জাতীয় সম্পত্তি ঘোষণা করার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্বজুড়ে মহাকাশ গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রসহ রাশিয়া, চীন, ভারত ও জাপান—পাঁচটি দেশই এ চুক্তির প্রতিষ্ঠাতা কিংবা অনুস্বাক্ষরকারী অংশীদার। ১০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের আউটার স্পেস অ্যাফেয়ার্স অফিসের এক মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কোনো রাজনৈতিক নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য এই আন্তর্জাতিক চুক্তির আইনি ভিত্তি পরিবর্তন করতে পারে না। তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য মহাকাশকে আন্তর্জাতিক সীমানামুক্ত অঞ্চল হিসেবে দেখার জাতিসংঘনীতির তোয়াক্কা না করার একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মহাকাশে আধিপত্য বিস্তারে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান এবারই প্রথম আলোচনার সৃষ্টি করেনি। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ‘আমেরিকার মহাকাশে শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিতকরণ’ বিষয়ক এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন ও পারমাণবিক চুল্লি বসানোর কৌশলগত পরিকল্পনা তুলে ধরেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে জারি করা বিশেষ আদেশে মহাকাশকে সবার যৌথ সম্পদ বা ‘গ্লোবাল কমন্স’ হিসেবে অস্বীকার করার কথা বলা হয়েছিল। তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান স্নোপস আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত করেছে যে, ট্রাম্পের এ দাবি একটি বৈশ্বিক রাজনৈতিক চর্চা ও আলোচনার জন্ম দিলেও আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতায় একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের চাঁদের মালিকানা অর্জনের কোনো সুযোগ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *