রোজাদারদের ভোগান্তি বাড়াবে যানজট, গণপরিবহন সঙ্কট

রমজানে তিন কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়বেন রাজধানীর বাসিন্দারা। যানজট, গণপরিবহন সঙ্কট ও ধুলার কারণে মারাত্মক কষ্টের শিকার হবেন রোজাদাররা। দিনের পর দিন এই তিন কারণে এমনিতেও রাজধানীর বাসিন্দারা দুর্দশায় রয়েছেন। রোজায় তা আরো কয়েকগুণ বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

রাজধানীতে গত কয়েকদিন ধরেই ভয়াবহ যানজটে মানুষ নাকাল। রাস্তায় নামলেই মানুষকে যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীর পোস্তগোলা, যাত্রাবাড়ী, বিশ্বরোড, মতিঝিল, কমলাপুর, জাতীয় প্রেস ক্লাব, পল্টন মোড়, কাকরাইল, মালিবাগ, শান্তিনগর, রামপুরা, শাহবাগ, আজিমপুর, সায়েন্স ল্যাব, মিরপুর রোড, সাতমসজিদ রোড, গাবতলী, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা, ফার্মগেট, মহাখালী, কাকলী, এয়ারপোর্ট ও আব্দুল্লাহপুর এলাকায় প্রতিদিনই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

কোনো কোনো এলাকায় খোঁড়াখুঁড়ির কারণে এবং মেট্রোলাইন স্থাপনের জন্য কাজের কারণে রাস্তা সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। ওই সব এলাকায় যানজট লেগেই থাকে। যানজট নিয়ন্ত্রণ যাদের দায়িত্ব তাদের কারণেও কোথাও কোথাও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিপ্লবী সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা বলেছেন, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কারণে কোথাও কোথাও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে অভিযোগ দিয়েছেন। ওই অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, সায়েদাবাদ এলাকায় ঢাকা সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী বেশ কিছু গাড়ি রাস্তার ওপর রেখে দেয়া হয়। এতে যানজটের পাশাপাশি ওই এলাকার বায়ু ও পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে।

মানিকনগর, টিটিপাড়া, কমলাপুর ও বিআরটিসি বাস টার্মিনালের সামনে রাস্তার ওপর গাড়ি রেখে কৃত্রিমভাবে যানজট সৃষ্টি করা হচ্ছে। সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালের ভেতরে ভাসমান দোকানপাট গড়ে ওঠায় টার্মিনালের ভেতরে গাড়ি রাখার পরিবেশ নেই।

ভুক্তভোগীরা বলেছেন, রাজধানীর তীব্র যানজট রোজাদারদের চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করবে। রোজা রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকলে তাদের কষ্টের সীমা থাকে না।

ঢাকা মহানগর ট্রাফিক বিভাগের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে, এই সময়ে যানজট নিরসনে তাদের কিছু উদ্যোগ রয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেলের ডিসি মাসুদুর রহমান বলেছেন, যানজট নিরসনে পুলিশ বিভাগ সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে।

রাজধানীতে গণপরিবহন সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। সিদ্দিকুর রহমান নামের এক পরিবহন মালিক গতকাল বলেন, গণপরিবহন সঙ্কট আছে। বিশেষ করে সকালে মানুষ যখন কাজের জন্য বের হন এবং অফিস বা কর্মস্থল থেকে মানুষ যখন বাসায় ফেরেন তখন তীব্র সঙ্কট সৃষ্টি হয়। প্রতিদিনই মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিবহনের জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

মোশাররফ নামের এক পথচারী বলেন, আগে অল্প কিছু সময় দাঁড়ালেই গাড়ি পাওয়া যেত। এখন দেখা যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও গাড়ি পাওয়া যায় না। গত রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পল্টন মোড়ে দেখা যায় গাড়ির জন্য কয়েক শ’ মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন। সেখানে গাড়ির জন্য অনেক নারীকেও অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

ভুক্তভোগী অনেকেই বলেছেন, পরিবহন সঙ্কট মানুষকে অনেক ভোগান্তির মধ্যে ফেলবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেছেন, পরিবহন সঙ্কট থাকবেই। ১০ বছর আগে রাজধানীতে যে গাড়ি চলতো তার অর্ধেক গাড়ি এখন চলাচল করছে। রাজধানীতে ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্ক হচ্ছে। যানজট আছে। এই অবস্থায় গণপরিবহন সঙ্কট থাকবে। মানুষের স্বস্তি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এই ভোগান্তির মধ্যে ধুলার অত্যাচারতো রয়েছেই। মনির হোসেন নামের এক পথচারী জানালেন, মোটরসাইকেলে এক ঘণ্টা রাস্তায় থাকলে শরীরে ধুলোর আস্তর জমে যায়। রাফি নামের এক পথচারী বলেন, কোনো বড় গাড়ির পেছনে পড়লে বোঝা যায় ধুলো কি। অনেক সময় শ্বাস গ্রহণ করা যায় না। রাফি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় খোঁড়াখুঁড়ি, রাস্তার খানা খন্দকসহ বিভিন্ন কারণে সড়কগুলোতে ব্যাপক ধুলার সৃষ্টি হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বাগতম

আপনাদের অনুপ্রেরণায় আমাদের পথচলা

অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ সারদিন এর সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

shares