রায়পুরায় ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনে মেঘনার গর্ভে ৩০ বসতঘর

নরসিংদীর রায়পুরায় মেঘনার নদীর অব্যাহত ভয়াবহ ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে ২০ পরিবারের অন্তত ৩০টি বসতঘর । ভাঙ্গনের আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছে চরমধূয়া গ্রামবাসী।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রায়পুরা উপজেলা চরমধূয়া ইউনিয়নের সিকদার বাড়ীর মেঘনা নদীর ঘাটে এ ভাঙ্গনের সূত্রপাত হয়ে চরমধূয়া গ্রামের অধিকাংশই নদী গর্ভে বিলীন হয়ে পড়েছে ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের ঠিক পরপরই সুর সুর আওয়াজে বসত ঘর নদী গর্ভে বিলীন হতে থাকে। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের আর্তচিৎকারে গ্রামের অন্য লোকজন ছুটে এসে কিছু বসত ঘর ও মালামাল টেনে হেচরে টানে তুললেও মূহুর্তেই ৩০টি ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এই সময় বিলীন হয়ে যায় তাদের হাঁস, মুরগীসহ গরু-ছাগল ও আসবাবপত্র। মেঘনার ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবী তাদের কয়েক লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

এ ব্যাপারে চরমধূয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আহসান সিকদার জানান, মেঘনার কয়েক বছরের অব্যাহত ভাঙ্গনে ইউনিয়নের প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার আজ ভিটামাটি ছাড়া ভূমিহীন হয়ে পড়েছে। অনেকেই অন্যত্র আত্মীয় স্বজনের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছে।

আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ মেঘনায় বাঁধ নির্মাণের জন্য মানববন্ধনসহ বিভিন্নভাবে দাবী জানিয়ে আসছি কোন কাজ হচ্ছে না। মানুষ এখন হতাশাগ্রস্থ। এ মেঘনা ভাঙ্গনে চরমধূয়া ইউনিয়নের মাদরাসা, স্কুল, বাজার ও কবরস্থানসহ ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মেঘনা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। তিনি দ্রুত একটি বাঁধ নির্মাণ করে চরমধূয়া ইউনিয়ন এর জনগনকে নদী ভাঙ্গন রক্ষা করতে দাবী জানান।

এ ব্যাপারে চর মধূয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম সিকদার বলেন, নদী ভাঙ্গনের ভয়াবহ ঘটনাটি কর্র্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এছাড়াও অব্যাহত নদী ভাঙ্গন রোধে আগেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে কর্তৃপক্ষকে লিখিত আকারে জানিয়েছি।

পরিদর্শণকালে জেলা পানি উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ সাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, নদী ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে আমরা লিখিতভাবে উর্দ্ধতন কর্তপক্ষকে জানিয়েছি। অনুমোদন হয়ে আসলে কাজ শুরু করতে পারবো।

এ খবর পেয়ে রায়পুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাদেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানান।

তিনি বলেন, আমাদের নেতা রায়পুরা থেকে নির্বাচিত ৬ বারের এমপি সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু এর মাধ্যমে নদী ভাঙ্গন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের লোকজনের দাবী আদায়ের জন্য প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আশ্বস প্রদান করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল মোতালিব, শ্রীনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রিয়াজ মুর্শেদ খান রাসেল। এই সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ অলিউল্লাহ তার সাথে ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বাগতম

আপনাদের অনুপ্রেরণায় আমাদের পথচলা

অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ সারদিন এর সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

shares