বিশ্বব্যবস্থায় পরিবর্তন ও সামরিক একনায়কদের আবির্ভাব

বিশ্বব্যবস্থা এক অন্যরকম পরিবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অগ্রসর হচ্ছে বলে মনে হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পূর্ববর্তী ব্যবস্থা ছিল উপনিবেশবাদ, খেলাফত ও রাজতন্ত্রভিত্তিক কয়েকটি শক্তিশালী দেশের প্রভাবে বিভক্ত। একদিকে ছিল ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো ঔপনিবেশিক শক্তির প্রভাব; অন্য দিকে ছিল, তুরস্কভিত্তিক ওসমানীয় খেলাফতের প্রভাব। এর মাঝে জারশাসিত রাশিয়া, ইতালি, জার্মান ও চীনা রাজতান্ত্রিক সাম্রাজ্যের বিশেষ প্রভাব। ঔপনিবেশিক প্রভুত্ববাদী দেশগুলোর মধ্যেও, বিশেষ প্রভাব ছিল ব্রিটেন ও ফ্রান্সের। এশিয়ায় ব্রিটেন এবং আফ্রিকায় ফ্রান্সের প্রভাব ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী কালটি নতুন একটি প্যারাডাইম শিফট বা দিগ পরিবর্তনের প্রস্তুতি সময় অতিক্রম করে। রাশিয়ায় কমিউনিস্ট বিপ্লব ঘটে ১৯১৭ সালে। চীনের কিং রাজতন্ত্রের স্থলাভিষিক্ত হন জাতীয়তাবাদী শাসকরা। জ্ঞানবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশকেন্দ্র হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র।

দু’টি আদর্শ বৈশ্বিক চিন্তা জগতে আধিপত্য বিস্তার করে। এর মধ্যে একটি হলো সমাজবাদ, যা রাষ্ট্রায়ত্ত মালিকানাকে কেন্দ্রীভূত করে আবর্তিত হয়। অন্যটি হলো উদার গণতন্ত্র, যা ব্যক্তি মালিকানা ও পুঁজিবাদী ধ্যানধারণাকে আবর্তন করে গড়ে ওঠে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর, অটোম্যান বা উসমানীয় খেলাফতের পতনের পর নতুন করে তুরস্ক সেকুলার দেশ হিসেবে পুনর্গঠিত হলে বৈশ্বিক পর্যায়ে মুসলিমদের নিয়ামক প্রভাব বিস্তারের অবসান ঘটে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বব্যবস্থায় নতুন একটি অবয়ব দাঁড়ায়। এক দিকে থাকে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রভাবিত সমাজতান্ত্রিক বলয়। অন্য দিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক বিশ্ব। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্রেটন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। জাতিসঙ্ঘ বিন্যস্ত হয় নতুনভাবে। ইউরোপের পূর্বাংশ সোভিয়েত নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বলয়ে আর পশ্চিমাংশ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্য বলয়ে চলে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগ পর্যন্ত বিশ্ব নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যে ভূমিকা ছিল, সেটিতে অভিষিক্ত হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর এই বলয়ের দ্বিতীয় সারির নেতায় পরিণত হয় যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স। অন্য দিকে ১৯৪৯ সালে চীনে মাও সেতুংয়ের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পর দেশটি প্রাথমিকভাবে সোভিয়েত বলয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত একটি আলাদা আদর্শিক লাইন গ্রহণ করে। সমাজতান্ত্রিক বলয়ের কয়েকটি দেশ চীনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখলেও বৈশ্বিকভাবে প্রভাব বিস্তারে কোনো প্রতিযোগিতায় আগ্রহ দেখায়নি চীন।

আফ্রো-এশিয়ার ছোট ছোট দেশ স্থানিক নেতৃত্ব ও রাজনীতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সোভিয়েত ও আমেরিকান বলয়ের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ ধরনের কিছু দেশ জোটনিরপেক্ষ একটি আন্দোলন ও অবস্থান তৈরির চেষ্টা করলেও তা শেষ পর্যন্ত কার্যকর বা নিয়ন্ত্রক কোনো প্রভাব সৃষ্টি করতে পারেনি বিশ্বব্যবস্থায়।

’৮০-র দশকের শেষ পর্যন্ত স্নায়ুযুদ্ধের এই ধারা বজায় থাকে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কার্যত সমাজতান্ত্রিক বলয়টি আর বহাল থাকেনি। সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত প্রজাতন্ত্রগুলো স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়। পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলো সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের অনুকরণে সমাজবাদী ব্যবস্থা পরিত্যাগ করে এক ধরনের গণতান্ত্রিক নির্বাচনভিত্তিক শাসন পদ্ধতি গ্রহণ করে। চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা সব দেশ থেকে এক প্রকার বিদায় নেয়। বিশ্বব্যবস্থা চলতে থাকে মার্কিন নেতৃত্বে এককেন্দ্রিক ব্যবস্থার অধীনে। দ্বিমেরুর ভারসাম্য এতে ব্যাহত হতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র নিজের ইচ্ছেমতো বিভিন্ন দেশে শাসন পরিবর্তন ও তার আধিপত্য চাপিয়ে দিতে থাকে।

২০১০ সালে নতুন দশকের শুরুতে আরব বসন্তের সূচনায় চলমান ব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা দেয়। মধ্যপ্রাচ্যের রাজতান্ত্রিক ও একনায়কতান্ত্রিক দেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বোঝাপড়া ছিল, তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থের বিপরীতে রাজতন্ত্রকে ওয়াশিংটন নিরাপত্তা দেবে। স্নায়ুযুদ্ধকালে এ ধরনের একটি সমঝোতার বিশেষ প্রয়োজন ছিল। এই সময় যুক্তরাষ্ট্র দৃশ্যত উদার গণতন্ত্রের কথা বললেও দেশে দেশে শাসন পরিবর্তনের জন্য সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করত। মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে খেলাফত শাসিত তুরস্কের স্থলে আধুনিক সেকুলার তুরস্কের প্রতিস্থাপনকে একটি মডেল হিসেবে দেখা হয়। এই মডেল অনুযায়ী, মিসরে জামাল আবদুল নাসের, লিবিয়ার মোয়াম্মার গাদ্দাফি, ইরাকের সাদ্দাম হোসেন, সিরিয়ায় হাফিজ আল আসাদ ও ইয়েমেনে আলী আবদুল্লাহ সালেহ ক্ষমতায় আসেন। আরো কয়েকটি আরব ও অনারব আফ্রো-এশীয় দেশে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শাসন পরিবর্তন হয়। তবে এসব পরিবর্তনের সবটাই যে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ধনে হয়েছে তা নয়। আমেরিকার পাশাপাশি সোভিয়েত ইউনিয়নও নানা সমীকরণে সামরিক জান্তাকে ক্ষমতা নিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

এ ধরনের এক অবস্থায় সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রাজতন্ত্রের নিরাপত্তার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। কিন্তু আরব বসন্তের প্রাক্কালে আমেরিকান নেতৃত্ব স্নায়ুযুদ্ধের প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন বিশ্বে একনায়কতান্ত্রিক সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা না দিয়ে গণতন্ত্র চর্চাকে উৎসাহিত করার কৌশল নেয়। এই কৌশলের অংশ হিসেবে বিভিন্ন আরব দেশে জনবিক্ষোভ শুরু হলে বিদ্যমান শাসকদের সমর্থন দেয়া থেকে বিরত থাকে ওয়াশিংটন। ফলে হুড়মুড় করে কয়েকটি সরকারের পতন ঘটে। কিন্তু অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় সেনা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণে এক ধরনের ভূমিকা নেয়। এর মধ্যে আরব বসন্তের কয়েকটি দেশে মুক্ত গণতান্ত্রিক নির্বাচনে ইসলামিস্টরা গরিষ্ঠতা অর্জন করে। এটাকে সামনে রেখে ইসরাইল ও সৌদি-আমিরাতের মধ্যে মুসলিম দেশগুলোতে উদার গণতন্ত্র চর্চা বিরোধী নতুন এক সমঝোতা গড়ে ওঠে। আর আরব জাগরণের পাল্টা অভ্যুত্থান প্রয়াস শুরু হয়। এই শুরুটা করা হয় মিসরকে দিয়ে। সেখানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মুরসি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সৌদি-ইসরাইল সমর্থনে জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ আল সিসি ক্ষমতায় আসেন এবং ব্যাপক রক্তপাত ঘটান।

এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপ স্টেটের যে অংশটি তুরস্ক-কাতারের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনে ভূমিকা পালনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিল, সে অংশটি দুর্বল হয়ে পড়ে। ওবামার প্রশাসনেই রাজতন্ত্র-ইসরাইলপন্থী প্রভাবে মিসরে পাল্টা অভ্যুত্থান প্রক্রিয়া শুরু ও সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে ওবামার বিদায়ের পর অধিকতর ইসরাইল-সৌদিপন্থী সাদা শ্রেষ্ঠত্ববাদী ধারণার কট্টর সমর্থক ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হন। রক্ষণশীল বা নিউকনরা আমেরিকান প্রশাসনে প্রতাপশালী হয়ে ওঠেন।

মধ্যপ্রাচ্যে প্রকাশ্য গণতন্ত্র চর্চার আন্দোলন একেবারেই ব্যাকফুটে চলে যায়। ইসরাইল-সৌদি-আমিরাত আরব বসন্তের প্রভাবশালী উপাদানগুলোর বিরুদ্ধে ‘ক্রাশ অভিযান’ শুরু করে। এ ধারার দেশগুলো মুসলিম ব্রাদারহুড ঘরানার ইসলামিস্টদের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করতে থাকে। তারা একই পদক্ষেপ নেয়ার জন্য যুক্তরাজ্য ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে থাকে। ব্রিটেনে এটি বেশ কিছুদূর অগ্রসর হয়ে আবার থেমে যায়। আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তুরস্কের সাথে বিরোধের জের ধরে ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেন। গণতন্ত্র চর্চার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে চল্লিশ ও পঞ্চাশের দশকে সেনাবাহিনীর জেনারেলদের ক্ষমতা গ্রহণ ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ইন্ধন দেয়ার যে কৌশল ছিল, সেটাকে ফিরিয়ে আনা হয়।

মিসরে এই কৌশল বাস্তবায়নের পর আশপাশে একই কৌশল প্রয়োগ প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন মুসলিম প্রতিরক্ষা জোট গঠনের মাধ্যমে মুসলিম দেশগুলোর সেনাবাহিনীর সাথে প্রত্যক্ষ যোগসূত্র তৈরি করার প্রচেষ্টা নেয়া হয়। এর মধ্যে তুরস্কে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তবে সেনাপ্রধান্য সম্বলিত ব্যবস্থাকে ইন্ধন দেয়ার প্রচেষ্টাকে চলমান রাখা হয়েছে। সুদানে জেনারেল বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এখন যারা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন সে জেনারেলদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে সৌদি-আমিরাতের। লিবিয়ায় জেনারেল হাফতার জাতিসঙ্ঘ স্বীকৃত সরকারকে উৎখাত করে যে সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠার প্রয়াস চালাচ্ছেন, তাতে এই অংশটি পুরোপুরি সমর্থন দিচ্ছে। আলজেরিয়ায় সেনা জান্তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে ফ্রান্সের সহায়তা নিয়ে।

এ দিকে যুক্তরাষ্ট্র্রকেন্দ্রিক প্রভাব বলয়ের বিকল্প যে শক্তিকেন্দ্র চীন-রাশিয়া গড়ে তুলছে, তাতে তেমন কোনো নির্ণায়ক আদর্শিক বিষয়-আশয় সেভাবে নেই। যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী দেশগুলো এই বলয়ে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছে। এতে ল্যাটিন আমেরিকা ও এশিয়া-আফ্রিকার কয়েকটি দেশ অভিন্ন বন্ধনে একত্র হয়েছে। সিরিয়ায় বাশার আল আসাদের সরকারকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে সামরিক হস্তক্ষেপ করে সফল হওয়ায় এবং এর আগে ক্রিমিয়া দখল আর জর্জিয়া ও ইউক্রেন সেক্টরে সাফল্য লাভ আর কিছু প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে যাওয়ার ফলে রাশিয়ার আস্থা অনেক বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি চীনের অর্থনৈতিক উত্থান বিকল্প একটি দ্বৈত বৈশ্বিক মেরুকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

এখন বিশ্ব পরিমণ্ডলে এক দিকে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দিকে রাশিয়া-চীনের মধ্যে দুটি ভিন্ন বলয় তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন উদার গণতন্ত্র ও মানবাধিকার কোনো নির্ণায়ক আদর্শ হিসেবে নেই। মিসরে যে ধরনের হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার হরণ চলছে, তার চেয়ে পাশ্চাত্যের কৌশলগত স্বার্থ কতটা মান্য করছে, সেটিই সিসিকে সমর্থনের মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাফতার লিবিয়া থেকে গণতন্ত্র ও ইসলামী উপাদান নিশ্চিহ্ন করার ঘোষণা দিয়ে ত্রিপোলি দখলের অভিযানে নেমেছেন। তিনি এবং তার স্ত্রী-পুত্র-কন্যা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক। জাতিসঙ্ঘের স্বীকৃত সরকারের বিপরীতে সেই সরকারকে এখন সমর্থন দিচ্ছে আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসন।

সম্ভাব্য নতুন যে বিশ্বব্যবস্থার আবির্ভাব ঘটতে যাচ্ছে তাতে দৃশ্যত গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থার নির্ণায়ক স্থান থাকবে বলে মনে হচ্ছে না। স্বার্থ নিশ্চিত হলে যেকোনো সরকারকে সমর্থন দিতে যুক্তরাষ্ট্র কসুর করবে না, তেমনিভাবে রাশিয়া-চীনের জন্য গণতন্ত্র ও মানবাধিকার কোনো বিষয়ই নয়। অধিকন্তু স্বেচ্ছাচারী সরকারগুলোকে সমর্থন ও ইন্ধন দিতে স্বস্তি অনুভব করছে এই বলয়টি।

প্রশ্ন হলো, এই অবস্থা কী কেবল মধ্যপ্রাচ্যের জন্য সত্যি হবে? সম্ভবত, নয়। সব দেশের জন্য রুশ-চীন মার্কিন নীতির মূল বিবেচ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে; তাদের স্বার্থ রক্ষা করা। ভেনিজুয়েলায় সেনা সমর্থনে একটি পক্ষ ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাচ্ছে; আরেকটি পক্ষ ক্ষমতা দখল করতে চাইছে। এক দিকে রয়েছে চীন-রাশিয়া; অন্য দিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। এই দুই মহাশক্তি পক্ষের আঞ্চলিক যারা মিত্র রয়েছে তাদের বিবেচ্যও একই। ফলে কাল মিসরে বা সিরিয়ায়, আজ লিবিয়া সুদানে আলজেরিয়ায় সামরিক একনায়কদের ক্ষমতায় বসানোর জন্য ইন্ধন দানের যে প্রতিযোগিতা চলছে তার পুনরাবৃত্তি অন্য এলাকায়ও হতে পারে। এ ঘটনা যে দক্ষিণ এশিয়ায় হবে না তার গ্যারান্টি নেই। আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এ ক্ষেত্রে সবার আগে চলে আসতে পারে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ- এই দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বাগতম

আপনাদের অনুপ্রেরণায় আমাদের পথচলা

অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ সারদিন এর সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

shares