বগুড়ার আসনগুলোয় ধানের শীষের পাল্লা ভারী

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে বগুড়া জেলার সাতটির মধ্যে ৬টিতে আসনেই ধানের শীষ দুলে উঠেছে। উচ্চ আদালতে আটকে যাওয়ায় বগুড়া-৭ আসনে ধানের শীষ না থাকায় বিকল্প কাউকে সমর্থন দেয়ার চিন্তা করছে বিএনপি। শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে সাতটি আসনেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা। এখন অপেক্ষা শুধু ভোটের।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান হওয়ায় বগুড়া জেলাকে বিএনপির ঘাঁটি বলা হয়। সেই সাথে এ জেলায় জামায়াতে ইসলামীর রয়েছে বিশাল ভোট ব্যাংক। তাই জেলার ৭ আসনের মধ্যে ৬টিতেই ধানের শীষের পাল্লা ভারী।

তবে জেলার ৭টি আসনের একটিতে ধানের শীষ নেই। এ আসনে বিএনপি যাকে সমর্থন দেবে তিনিই বিজযী হবেন। মহাজোটের প্রধান দল আওয়ামী লীগ বগুড়া-১ ও বগুড়া-৫ আসনে ধানের শীষের সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করছে। এছাড়া বগুড়া-৪ আসনে জাসদ (ইনু) প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে ধানের শীষের সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করছে।

বগুড়া-১ আসনঃ সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি কাজী রফিকুল ইসলামের সাথে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নান। এ আসনে এ দুজনের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দিতা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ধানের শীষের পাল্লাই ভারী বলে জানিয়েছে বিভিন্ন জরিপ প্রতিবেদন।

বগুড়া-২ আসনঃ শিবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তার মূল প্রতিদ্বন্দী জাপার লাঙ্গল প্রতীকে শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ। এ আসনে বিএনপি জামায়াতের বড় ভোট ব্যাংকের কাছে লাঙ্গল সুবিধা করতে পারবে না বলে ধারণা ভোটারদের।

বগুড়া-৩ আসনঃ আদমদিঘি ও দুপচাঁচিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি আব্দুল মোমিন তালুকদার খোকার স্ত্রী মাছুদা মোমিন। তিনি নতুন মুখ হলেও লাঙ্গলের প্রার্থী জাপার নূরুল ইসলাম তালুকদারের ধানের শীষের কাছে প্রতিদ্বন্দিতায় আসাই কঠিন।

বগুড়া-৪ আসনঃ কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন তরুণ শিল্পপতি মোশারফ হোসেন এবং মহাজোটের প্রার্থী জাসদ (ইনু) এর নৌকা প্রতীক নিয়ে রেজাউল করিম তানসেন। নৌকার প্রার্থী হলেও এখানে তানসেনের জয় নিয়ে মহাজোটের কর্মীরাই সন্দিহান। এখানে বিএনপি ও জামায়াতের বড় ভোট ব্যাংক রয়েছে।

বগুড়া-৫ আসনঃ ধুনট ও শেরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক এমপি গোলাম মোঃ সিরাজ ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবর রহমান। বর্তমান এমপি হাবিব সম্পর্কে খোদ আওয়ামী লীগ ও জনমনে রয়েছে নেতিবাচক প্রভাব। তাই ধানের শীষের পাল্লাই ভারী।

বগুড়া-৬ আসনঃ বগুড়া সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি ও জামায়াতের দূর্গ হিসেবে পরিচিত এ আসনে বিগত প্রতিটি নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হেসে খেলে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। এখানে মহাজোটের প্রার্থী জাপার লাঙ্গল প্রতীকের নূরুল ইসলাম ওমর।

বগুড়া-৭ আসনঃ গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে জিয়াউর রহমানের পৈত্রিক বাড়ী। এ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিকল্প প্রার্থী হিসেবে ছিলেন গাবতলী উপজেলা চেয়ারম্যান মোরশেদ মিল্টন। তার মনোনয়নপত্র প্রথমে রিটার্নিং কর্মকর্তা বাতিল করলেও পরে নির্বাচন কমিশন বৈধ বলে ঘোষনা দেয়। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা আযম খানের স্ত্রী ফেরদৌস আরা খানের রিটের কারণে উচ্চ আদালত মোরশেদ মিল্টনের প্রার্থিতা স্থগিত করেন। এরপর ধানের শীষ শূন্য এ আসনে বিএনপি এখনো অন্য কাউকে সমর্থন দেয়নি বলে জানা গেছে। তবে বিএনপি যাকে সমর্থন দেবে তিনিই নির্বাচিত হবেন বলে ধারণা করছেন ভোটাররা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বাগতম

আপনাদের অনুপ্রেরণায় আমাদের পথচলা

অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ সারদিন এর সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

shares