‘প্রকৌশল বিদ্যা না থাকলেও প্রকল্প পরিচালনা করছে আমলারা’

বর্তমানে আমাদের প্রকৌশলীরাই দেশের সব বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প দক্ষভাবে পরিচালনা করছেন। অথচ অনেক সময় দেখা যাচ্ছে আমলারা প্রকৌশলীদের জায়গা দখল করে আছে। প্রকৌশল বিদ্যা না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রকল্প আমলারা পরিচালনা করছে।

দেশের প্রকৌশলীদের একমাত্র জাতীয় পেশাজীবি প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রকৌশলীরা এসব কথা বলেন। প্রতিবছরের ন্যায় নানা আয়োজন আর উৎসবের মাধ্যমে সারাদেশের প্রকৌশলীরা এই বছরও এই দিনটিকে ‘ইঞ্জিনিয়ার্স ডে’ হিসেবে উদযাপন করেছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর রমনায় আইইবি প্রঙ্গণে সকাল ৮টায় আইইবি সদর দফতর এবং ঢাকা কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এখানে এক আলোচনা সভায় বক্তারা আরো বলেন, প্রকৌশল বিদ্যা না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রকল্প আমলারা পরিচালনার কারণে অনেক সময় সেই সব প্রকল্প থেকে ভালো ফলাফল পাওয়া যায় না। তাই শুরুতেই দেশের অর্থ নষ্ট হয়। তাই প্রকৌশলীদের কাজ প্রকৌশলীদের দিয়েই পরিচালনা করানোর দাবি জানান বক্তারা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইইবির ভাইস-প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মোঃ নুরুজ্জামান, প্রকৌশলী মোল্লা মোহাম্মদ আবুল হোসেন, প্রকৌশলী এস এম মনজরুল হক মঞ্জু, সম্মানী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ, সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী কাজী খায়রুল বাশার, আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ওয়ালী উল্লা সিকদার, সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী শাহাদৎ হোসেন শীবলু প্রমুখ।

প্রতিষ্ঠানটির ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রথমে আইইবির সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এরপর জাতীয় সংঙ্গীতের বাজানোর সাথে সাথে জাতীয় ও আইইবি’র পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উঠিয়ে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠান উদ্বোধন শেষে আইইবি প্রঙ্গণ থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি মৎস ভবন মোড় প্রদক্ষিণ করে আবার আইইবি প্রঙ্গনে আসে। পরে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ৭ মে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন যাত্রা শুরু করে। আইইবি এই দেশের প্রকৌশলীদের একমাত্র জাতীয় পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান। আইইবি বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠানও বটে। ১৯৪৭-এ পাকিস্তান সৃষ্টির পর আইইবি-ই একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান, যার সদর দফতর বাংলাদেশে অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম কাউন্সিল সভা অনুষ্ঠিত হয় ২৬ শে ডিসেম্বর ১৯৭১ (বিজয়ের মাত্র ১০দিনের মধ্যে), সেই সভাতেই ‘ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স পাকিস্তান’ নাম পরিবর্তিত হয়ে ‘ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ নামকরণ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বাগতম

আপনাদের অনুপ্রেরণায় আমাদের পথচলা

অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ সারদিন এর সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

shares