‘ধর্মনিরপেক্ষতার সংকীর্ণ ভাষ্য ধর্মীয় উগ্রবাদ বাড়াচ্ছে’

ধর্মনিরপেক্ষতার সংকীর্ণ ভাষ্য প্রয়োগের ফলেই বাংলাদেশসহ মুসলিম দেশগুলোতে ধর্মীয় উগ্রবাদ বাড়ছে। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণা চাপিয়ে দেয়ার ফলে সাধারণ গ্রামীণ জনগণ নতুন ধরণের আত্মপরিচয় (আইডেন্টিটি) নিয়ে সংকটে পড়েন। ধর্মনিরপেক্ষতা তাদের কাছে শহুরে মধ্যবিত্তের ধারণা এবং সমাজের স্বাভাবিক উন্নতি ও প্রগতির বিরোধী হিসেবে আবির্ভূত হয়।

মঙ্গলবার জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘৯/১১ পরবর্তী বিশ্বে আধুনিকতা ও ধর্মনিরপেক্ষতা’ শীর্ষক ৪র্থ ‘অপ্রকাশিত পিএইচডি অভিসন্দর্ভ বক্তৃতা’য় এসব মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন।

তিনি ২০১৫ সালে ‘দি অয়েল অব দ্য পাস্ট: মডার্নিটি অ্যান্ড সেক্যুলারিজম এন পোস্ট ৯/১১ ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভ জমা দিয়ে সিডনির ম্যাককয়ারি ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। সেই অভিসন্দর্ভের ওপর ভিত্তি করেই মঙ্গলবারের বক্তৃতা রচিত হয়েছে।

দীর্ঘ বক্তৃতায় তিনি বলেন, আধুনিকতা ও ধর্মের মধ্যকার দ্বন্দ্বের ফলাফল হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতার একটা ত্রুটিযুক্ত ভাষ্য আভির্ভূত হয়েছে। এই ভাষ্যে আধুনিকতা বলতে ধর্মহীনতাকে বোঝানো হয় এবং মনে করা হয়, রাষ্ট্রের পরিচয় হবে ধর্মহীন (অ্যারিলিজিয়াস)। পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষত, ইউরোপীয় জনগোষ্ঠীর নিজেদের দীর্ঘ সংগ্রামের অংশ হিসেবে ১৬৪৮ সালের ওয়েস্টফালিয়া চুক্তির মধ্য দিয়ে ধর্ম ও রাষ্ট্রের মধ্যকার একটা সীমারেখা হিসেবে এই ধারণার বিকাশ ঘটেছিল।

কিন্তু উত্তর-ঔপনিবেশিককালে আবির্ভূত সকল রাষ্ট্রই, যার মধ্যে মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রগুলোও রয়েছে, ইউরোপের এই বিশিষ্ট সার্বভৌমত্বের ধারণা এবং আধুনিকতার সমার্থক হিসেবে ‘সেক্যুলার রাষ্ট্র’ ধারণাকে নকল করেছে। এর ফলে এই সমাজগুলোতে ধর্মের ভূমিকাকে খাটো করা হয়, যেখানে এসব সমাজ শুধু অতি-ধর্মপ্রবণই নয়, বরং ধর্ম তাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এভাবেই ধর্ম ও আধুনিকতার মধ্যকার দ্বন্দ্ব প্রকাশিত হয় এবং ৯/১১ তে টুইন টাওয়ার হামলার পরবর্তীকালে এই দ্বন্দ্ব প্রকট রূপ লাভ করে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ধর্মনিরপেক্ষতার সুনির্দিষ্ট একটি ভাষ্য চাপিয়ে না দিয়ে আলোচনার পরিসর তৈরি করা এবং ভিন্নতর ভাষ্য তৈরি করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির প্রোভিসি ড. ফকরুল আলম। স্বাগত বক্তৃতা প্রদান করেন জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ড. আহরার আহমদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বাগতম

আপনাদের অনুপ্রেরণায় আমাদের পথচলা

অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ সারদিন এর সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

shares