টিকিট সঙ্কটে ওমরাহ যাত্রীদের ভিসা বাতিলের পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে

হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এর নব নির্বাচিত সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেছেন, টিকিট সংকটের ওমরাহযাত্রীসহ অন্তত ২০ হাজার লোকের ভিসা বাতিলের পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি করে, প্রয়োজনে ব্যাংকের মতো কম দূরত্বের ফ্লাইট কমিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলায় উদ্যোগ নিতে হবে। ওপেন স্কাই চালু ও অন্যান্য এয়ারলাইন্সকেও বিভিন্ন চার্জ কমিয়ে ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা করতে হবে। টিকিট সংকটের কারণে কৃত্রিমভাবে টিকিটের মূল্য বৃদ্ধির কারণে কোটি কোটি টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গণমাধ্যমের ধর্ম বিষয়ক রিপোর্টারদের সংগঠন ‘রিলিজিয়াস রিপোর্টার্স ফোরাম (আরআরএফ)’ এর নেতাদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত ও মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার দুপুরে হাব কার্যালয়ে আরআরএফ’এর সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ভূঁইয়া, সহসভাপতি মিয়া হোসেন, সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল, কোষাধ্যক্ষ রকীবুল হক, দফতর সম্পাদক কাওসার আজম, প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবলু ও নির্বাহী কমিটির সদস্য সামসুল ইসলাম নব নির্বাচিত হাব সভাপতিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। অন্যান্যের মধ্যে হাবের নব নির্বাচিত সহসভাপতি মাওলানা ইয়াকুব শরাফতী ও এম ইব্রাহীম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

হাবের সভাপতি আরআরএফনেতাদের সাথে মতবিনিময়কালে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যগ্রামী কিছু এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট কমিয়ে দেয়া ও কিছু এয়ার লাইন্স ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়ার কারনে মারাত্মক টিকিট সংকট তৈরী হয়েছে। এই সুযোগে টিকিটের দাম প্রায় দ্বিগুন বাড়িয়ে দিয়েছে এয়ারলাইন্সগুলো। এতে অভিবাসন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ।

অনেকে ছুটি নিয়ে দেশে আসার পর এখন যেতে পারছেন না। এতে তাদের ভিসা বাতিল হচ্ছে। অন্যদিকে রমজানে যারা ওমরাহ করার জন্য ভিসা করিয়েছিলেন তাদের অনেকে যেতে পারছেন না। এতেকরে প্রায় ২০ হাজার লোকের ভিসা বাতিলের মতো পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে।

শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, এই সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কারণ এতে দেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। দেশের টাকা বাইরে চলে যাচ্ছে। অনেকে ছুটি নিয়ে দেশে আসার পর এখন যেতে পারছেন না। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ওমরা পালন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই সংকট নিরসনে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে ওপেন স্কাই চালু, চার্জ কমানোসহ অন্যান্য পদক্ষেপ নিতে হবে।

তাৎক্ষনিক পদক্ষেপ হিসেবে বিমান বাংলাদেশ বিমানের নতুন যে ক্যাপাসিটি তৈরী হয়েছে তা মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট পরিচালনায় নিয়োজিত করতে হবে। এছাড়া প্রয়োজনে ৭৭৭ এয়ারক্রাফট ব্যাংকে পরিচালনা না করে জেদ্দা ও রিয়াদে পরিচালনা করতে হবে। তিনি বলেন, যে কোন উপায়ে এই সময়ে এই সংকট মোকাবেলায় সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

হাব সভাপতি জানান, চলতি বছর হজ ব্যবস্থাপনাকে আরো সুষ্ঠু ও সুন্দর করার জন্য হাবের পক্ষ থেকে সরকারকে সার্বিক সহযোগিতা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আশা করা যায় এ বছর হজ ব্যবস্থাপনা আগের চেয়েও আরো ভালো হবে। এ ব্যাপারে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বাগতম

আপনাদের অনুপ্রেরণায় আমাদের পথচলা

অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ সারদিন এর সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

shares