গাজীপুরে অপহরণের পর ছাত্রহত্যা

গাজীপুরে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের পর স্কুলছাত্র শিশু নিফাতকে হত্যার ঘটনায় মা, ছেলে, মেয়ে ও পুত্রবধূসহ একই পরিবারের চারজনকে আটক করেছে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা। আটককৃতরা হলো- নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানার নোয়াপাড়া গ্রামের রজব আলীর স্ত্রী রোজিনা বেগম (৪৫), তাদের ছেলে মো: রফিকুল ইসলাম (২৬), পুত্রবধূ তানজিনা (১৮), আলী আহম্মেদের স্ত্রী মঞ্জুরা বেগম (২৫) ও কবিরুল ইসলামের স্ত্রী মাজেদা বেগম (৪০)। তাদের মধ্যে তানজিনা ও মাজেদা গ্রেফতারকৃত রফিকুলের বোন।
র‌্যাব-১ এর পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের স্পেশালাইজড কোম্পানির কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন গতকাল জানান, মুক্তিপণের দাবিতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সদর থানার বাহাদুরপুর তুলসি ভিটা এলাকার হযরত আলীর ছেলে ইফতিয়াক হোসেন নিফাতকে (১১) অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে র‌্যাব-১ এর পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের স্পেশালাইজড কোম্পানির সদস্যরা বাহাদুরপুর এলাকায় বৃহস্পতিবার অভিযান চালায়। র‌্যাব সদস্যরা এ সময় নিফাত হত্যার ঘটনার মূল আসামি রফিকুল ও তার মা, দুই বোন ও স্ত্রীসহ চারজনকে আটক করে। আটকরা মুক্তিপণের দাবিতে নিফাতকে অপহরণের পর হত্যার কথা স্বীকার করে। গ্রেফতারকৃত রফিকুল গত ১০ বছর স্ত্রী, মা বোন নিয়ে গাজীপুরের বাহাদুরপুর এলাকার ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় বিভিন্ন গার্মেন্ট কারখানায় চাকরি করে আসছে।
র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানায়, বড় অঙ্কের টাকা প্রাপ্তির আশায় প্রায় তিন মাস আগে নিফাতকে অপহরণের পরিকল্পনা করে আটকরা। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রফিক প্রায়ই নিফাতের সাথে খেলাধুলা করত। গত বুধবার খেলার সময় রফিক কৌশলে নিফাতকে অপহরণ করে তাদের ঘরে নিয়ে আটক করে। এ সময় নিফাত চিৎকার শুরু করলে আসামিরা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে নিফাতকে হত্যা করে লাশ পাশের আমবাগানে ফেলে রাখে। পরে আলামত ধ্বংস করার জন্য নিফাতের জুতা ও খেলার ব্যাট পুড়িয়ে ফেলে তারা। এ ঘটনার পর অপর আসামি নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানার নোয়াপাড়া গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে মো: হারুন (২৭) পালিয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সদর থানার বাহাদুরপুর তুলসি ভিটা এলাকার হযরত আলীর ছেলে ইফতিয়াক হোসেন নিফাত (১১) গত বুধবার দুপুরে বাড়ির পাশে ব্যাডমিন্টন খেলছিল। এ সময় সেখান থেকে নিখোঁজ হয় নিফাত। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও নিফাতের সন্ধান পায়নি। এ সময় অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে নিফাতের বাবার কাছে মোবাইলে ফোনে হুমকি দেয়। পরদিন বৃহস্পতিবার বাড়ির পাশের আমবাগান থেকে অপহৃত নিফাতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বাগতম

আপনাদের অনুপ্রেরণায় আমাদের পথচলা

অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ সারদিন এর সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

shares