খুলনায় বিএনপির ৩ প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন

খুলনা-২ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, পুলিশ ও ডিবি আতঙ্কে আমার নির্বাচনী অফিসগুলো ফাঁকা হয়ে গেছে। সেগুলোতে তালা লাগানো। নেতাকর্মীদের তুলে নিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে ১৪ গোষ্ঠীকেও তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে পুলিশ। অফিসগুলো থেকে পুলিশ পোস্টার ও ভোটার স্লিপ ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। পুলিশের নির্দেশনায় সব কিছু পরিচালিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগের কর্মীরা হ্যান্ডমাইকে আমার কর্মীদের এলাকা ছেড়ে যেতে বলছে। সরকারি দলের ডাকসাইটে নেতারা এবং সন্ত্রাসীরা আমাদের অফিসের সামনে বসে থেকে সব নিয়ন্ত্রণ করছে। আমার কোনো কর্মী সেখানে গেলে তার ছবি তুলে রাখছে তারা। এখন দুই দিনে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ, সেন্টার কমিটির গ্রেফতার হওয়াদের পরিবর্তে নতুন লোক সেট করা, কেন্দ্রের সামনে বুথ তৈরী করা আমাদের জন্যে খুব দুরুহ হয়ে পড়েছে।

আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় মহানগর বিএনপি অফিসে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এরপর খুলনা-৩ ও খুলনা-১ আসনের প্রার্থীরাও সেখানে ব্রিফিং করে একই ধরনের অভিযোগ করেন।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করে বলেন, সেনাবাহিনীর কাজ অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা। তিনি সেনাবাহিনীর গাড়িতে মাইকিং করে ভোটারদের ভীতি দূর করতে এবং ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি জানান। এছাড়া প্রতিটি ভোট সেন্টারে সেনাবাহিনীর তদারকি নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রচারণার সময় শেষ হলেও আজ শুক্রবার সকালে সরকারি দলের কর্মীরা মোটরসাইকেলে মহড়া দিচ্ছে। এলাকায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীন। কারাগারে ঠাঁই নাই। জামিনে থাকা মামলায় গ্রেফতার করা হচ্ছে।

তিনি গত রাতে এবং শুক্রবার জেএসডির নগর সভাপতি লোকমান হাকিম, কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান মনি, তার ভাই মিজানুর রহমান, শফিকুল ইসলাম শফি, আব্দুল কাদের মল্লিকসহ অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান। সেই সাথে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনারকে দ্রুত প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান।

ব্রিফিংকালে তার সাথে ছিলেন সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্তজা, জাফরুল্লাহ খান সাচ্চু, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, মাওলানা নাসির উদ্দিন ও অ্যাড. আক্তার জাহান রুকু।

পরে সেখানে সন্ত্রাসমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান আল্লাহর সাহায্য চেয়ে দোয়া করা হয়।

খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, এখানে আসার সময় আমার গাড়ি থেকে ডিবির লোকজন বিএনপি নেতা শামীমুজ্জামানকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে নিয়ে গেছে। সেখানে সুষ্ঠু ও সুন্দর ভোট অনুষ্ঠানের কোনো অবস্থা নেই। আওয়ামী লীগ ভোট কাটার জন্যে প্রতিকেন্দ্রে কমিটি গঠন করেছে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। আমার পোলিং এজেন্টরা সব পালিয়ে গেছে। এখন নতুন লোক খুঁজতে হচ্ছে।

খুলনা-১ আসনের প্রার্থী আমীর এজাজ খান বলেন, তার এলাকায় আওয়ামী লীগের লোকজন নৌকায় ভোট না দিলে টিআর, কাবিখা তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকদের ভীতি প্রদর্শনের কারণে তিনি পোলিং এজেন্ট তালিকা কয়েকবার পরিবর্তন করতে হয়েছে বলে জানান।

তার এলাকার রামনগর ধোপাদি লাইনার খাল স্কুল মাঠে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে আওয়ামী লীগের লোকেরা দুটি পটকা ফুটিয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপির ৩০ নেতাকর্মীর নামে মামলা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আমি ওসিকে ফোন করে বলেছি সেটা আওয়ামী লীগের এলাকা। সেখানে বিএনপির লোকদের যাওয়ার কোনো উপায় নেই। সেসব জেনেও আপনি কিভাবে আমার লোকদের নামে মামলা দেন?

এ প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. শফিকুল আলম মনা খুলনা-৪ আসন এলাকার তেরখাদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি চৌধুরী কাওসার আলীকে গতরাতে গ্রেফতার করার কথা জানান। এর মধ্যেই রিটার্নিং অফিসারের সাথে দেখা করতে যাওয়ার পথে খুলনা জেলা পরিষদের সামনে রকিবুল ইসলাম বকুলের গাড়ি আটকে যুবদল নেতা সাগরকে ডিবির সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছে বলে জানান অ্যাড. মনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বাগতম

আপনাদের অনুপ্রেরণায় আমাদের পথচলা

অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ সারদিন এর সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

shares