কী হবে ফেনীর তিন আসনে

রাত পোহালেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। রাজনৈতিক ঘটনাবহুল আলোচিত জেলা ফেনীতে কী হবে সব ছাপিয়ে এখন সর্বত্রই এ আলোচনা। ধানের শীষের দুর্গ খ্যাত এ জনপদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নৌকার দাপুটে প্রচার-প্রচারণা চালালেও নির্জীব ছিল প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্ট। স্বাধীনতা-পরবর্তী বিগত ১০টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার তিনটি নির্বাচনী এলাকার দু’টিতে ভোটের হিসাবে বিএনপি বেশি জয় পেলেও সদর আসনে সমানে সমান আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এর ফলে বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার পৈতৃক বাসস্থান ফেনী ক্রমেই বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিতি পায়।

ফেনী-১ আসন থেকে টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনবার প্রধানমন্ত্রী ও দু’বার বিরোধীদলীয় নেত্রী ছিলেন তিনি। অন্য আসনগুলো ছেড়ে দিলেও পৈতৃক এলাকার এ আসনটি একবার ছাড়া বরাবরই নিজে থাকতেন। কেবল ২০০১ সালে ছোট ভাই মেজর (অব:) সাঈদ এস্কান্দারকে আসনটি ছেড়ে ছিলেন। কিন্তু ২০০৮ সালে নির্বাচিত হলে আসনটি নিজেই রাখেন।

আর ২০১৪ সালে খালেদা জিয়াবিহীন নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হন জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার। এবারো তিনি মহাজোটের মনোনয়নে নৌকার প্রার্থী হন। এর আগে ১৯৯১ সালে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মশাল প্রতীক নিয়ে ধানের শীষের মুখোমুখি হয়ে ওই নির্বাচনে এক হাজার ২৪৫ ভোট পেয়েছিলেন শিরীন। এবার কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় তার আসনে ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল সভাপতি রফিকুল আলম মজনু। তরুণ এ রাজনীতিকের বাড়ি ফেনী সদরের মোটবী ইউনিয়নের সাতসতি গ্রামে। ১৪০ মামলার বোঝা নিয়ে মজনু চষে বেড়াচ্ছেন পরশুরামের বিলোনীয়া থেকে ছাগলনাইয়ার মুহুরীগঞ্জ পর্যন্ত। ছয় উপজেলার ফেনীর অর্ধেকজুড়েই এ আসন। ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই ভিআইপি আসনটিতে ১৯৭৩ সালের পর থেকে নৌকা জয় পায়নি।

ফেনী-২ আসনে ১০টি জাতীয় নির্বাচনের পাঁচবার আওয়ামী লীগ ও পাঁচবার বিএনপি প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারের নির্বাচনে বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী নৌকা ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদীন ভিপি ধানের শীষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
দাগনভূঞা-সোনাগাজী উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-৩ আসনে পাঁচবার বিএনপি, তিনবার আওয়ামী লীগ ও দু’বার জাতীয় পার্টি প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবারের নির্বাচনে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা লে. জেনারেল (অব:) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী মহাজোটের নৌকা ও দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: আকবর হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তা তো হয়নি, উল্টো প্রচারণাকালে নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছে। অব্যাহত রয়েছে ধরপাকড়। নির্বাচনী অফিস থেকেই ধানের শীষের কর্মীদের পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও নেতাকর্মীরা সীমিত আকারে প্রচার চালিয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তথা ধানের শীষের জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদী প্রার্থীরা।

তবে সরকারদলীয় নেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। একসময়ের সন্ত্রাসের জনপদ খ্যাত ফেনীকে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন বলে তাদের দাবি। তারা বলছেন, গত ১০ বছরে সরকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। এতে এবার নৌকার পক্ষে বেশ সাড়া মিলছে। উন্নয়নের স্বার্থে জনগণ নৌকাকেই ভোট দেবে বলে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর মতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বাগতম

আপনাদের অনুপ্রেরণায় আমাদের পথচলা

অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ সারদিন এর সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

shares