ইরানকে নিয়ে কুর্দিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু তুরস্কের

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে কুর্দি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে তুরস্ক ও ইরান। সোমবার তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোলাইমান সোইলু এই ঘোষণা দেন।

তুর্কি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোলাইমান সোইলু বলেন, অবৈধ কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে সোমবার এই সামরিক অভিযান শুরু হয়।

সোমবার ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী শহর আনাতোলিয়ায় এক সমাবেশে তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,‘সোমবার সকাল ৮টায় ইরানকে সাথে নিয়ে আমাদের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে পিকেকে’র বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে তুরস্ক। এই অভিযানের ফলাফল আমরা পরে ঘোষণা করবো।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোইলু এই অভিযানের ব্যাপারে প্রথম মুখ খুললেও তিনি বিস্তারিত আর কিছু বলেননি।

অবশ্য, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ ভিন্ন কথা বলছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের সামরিক বাহিনীর একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংস্থাটি বলছে, তেহরান এই সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি।

উল্লেখ্য, আঙ্কারা পিকেকে’কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে কুর্দিদের স্বায়ত্তশাসন দেয়ার ব্যাপারে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তুরস্কের প্রতি দাবি জানিয়ে আসছে পশ্চিমা দেশগুলো। তুরস্ক সরকার ও কুর্দিদের মধ্যকার দ্বন্দ্বে এখন পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছে।

তুরস্ক ও উত্তরাঞ্চলীয় ইরাকে কুর্দিরা পিকেকে নামেই কার্যক্রম পরিচালনা করে। অন্যদিকে সরিয়িায় কুর্দিদের সংগঠনের নাম পিপলস প্রটেকশন ইউনিট (ওয়াইপিজি)। পাশাপাশি কুর্দিস্তান ফ্রি লাইফ পার্টি (পিজেএকে) নামক সংগঠনের নামে কুর্দিরা ২০০৪ সাল থেকে ইরানের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে।

এর আগে তুরস্ক ও পিকেকে’র মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হলেও ২০১৫ সালে তা ভেস্তে যায়। এরপর থেকেই এই কুর্দিদের বিরুদ্ধে স্থল ও বিমান হামলা জোরদার করে তুরস্ক। তুরস্ক কেবল নিজেদের সীমান্তের মধ্যেই নয়, উত্তর ইরাকে অবস্থানরত কুর্দি বিদ্রোহী ও স্থপনাতেও হামলা চালিয়ে আসছে। কুর্দিদের প্রধান ঘাঁটি ইরাকের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত। সূত্র : আলজাজিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বাগতম

আপনাদের অনুপ্রেরণায় আমাদের পথচলা

অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ সারদিন এর সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

shares