নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের ভাবনা

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এবারের ভোটের মাধ্যমে টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন দলের শীর্ষ থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীরাও। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রচারের সময় দেশের বেশির ভাগ জায়গায় বিএনপি জোটের প্রার্থীদের কোণঠাসা অবস্থানে রাখতে পারায় এ ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে দলের সর্বস্তরে। ফলে বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন সরকার সমর্থকেরা। তবে শেষ পর্যন্ত আগামীকাল রোববার ভোটকেন্দ্রে কী পরিস্থিতি দাঁড়ায় তা নিয়েও শঙ্কা কম নয় ক্ষমতাসীনদের মধ্যে।

সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী জনসভা থেকে আবারো সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সর্বশেষ ভারতের সাংবাদিকদের দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জোর দাবি বলেছেন, ‘আগামীতেও আমরাই ক্ষমতায় আসব। জনগণ আমাদেরকেই ক্ষমতায় চায়।’

ভোটের মাত্র দু-এক দিন আগে দলের সর্বোচ্চ নেতার মুখ থেকে এমন আত্মবিশ্বাসী বক্তব্যে উজ্জীবিত হয়েছেন সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলছেন, চলমান গ্রেফতার অভিযান, হামলা-মামলা ও প্রার্থীদের প্রচারে নামার সুযোগ না দেয়া এবং সর্বোপরি একতরফা ভোটের মাঠ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল বলেছেন, ‘আমরা দু-তৃতীয়াংশ সংখাগরিষ্ঠতা নিয়ে আবারো সরকার গঠন করব।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, ‘বিএনপি জোট ৩০টি আসনেও জয় পাওয়ার অবস্থায় নেই।’

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, ভোটের মাঠ এখনো পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে। বিশেষ করে গত কয়েক দিন বিএনপি প্রার্থী ও সমর্থকদের একরকম প্রচার মাঠেই দাঁড়াতে দেয়া হয়নি। এ সময় অনেক প্রার্থীর ওপর হামলা ও গুলি ছোড়া হয়েছে। বিএনপি জোটের প্রার্থী ও সমর্থকদের মাঠ ছাড়া করতে প্রশাসনও পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। এখনো সারা দেশে ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। এতে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সরকারবিরোধীরা। বিএনপিও দাবি করছে তাদের সম্ভাব্য এজেন্ট ও সক্রিয় নেতাকর্মীরা এলাকায় থাকতে পারছেন না। দেশজুড়ে এমন আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ায় আওয়ামী লীগের পক্ষে একরকম ফাঁকা মাঠ তৈরি হয়েছে; যা কাল রোববার ভোটের দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে আওয়ামী লীগের জয় নিশ্চিত হবে।

তবে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে কোথাও কোথাও ভয় রয়েছে আওয়ামী লীগের। পাশাপাশি মহাজোটের শরিকদের প্রায় দুই শ’ আসনে প্রার্থী থাকা নিয়েও চিন্তা কম নেই। বিশেষ করে মহাজোটের বাইরে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রথমে সরে যেতে বলে আবার মাঠ না ছাড়ার নির্দেশনা দেন জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। তার এমন মনোভাব সরকারের সাথে মতবিরোধেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে। এরশাদের এমন ঘোষণার পর বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা বেশ সক্রিয় হয়ে লড়েছেন বলে খবর এসেছে, যা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জন্য চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ভোটের দিন বিএনপি সমর্থকেরা কেন্দ্রে কেন্দ্রে সক্রিয় হলে মাঠের চিত্র পাল্টে যেতে পারে বলেও শঙ্কায় রয়েছেন নীতিনির্ধারকেরা। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি জোটের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের দিন ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য রয়েছে। সে জন্য ওই দিন নির্বাচনী মাঠের কী অবস্থা দাঁড়ায় তা নিয়ে মোটেও নিশ্চিত নন তারা। ভোটের দিন বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পারে বলে এরই মধ্যে আশঙ্কা করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দু’জন নেতা বলেন, এখনো সব কিছু আওয়ামী লীগের অনুকূলে। সব বাধা পেরিয়ে ভোটের দিন সরকারবিরোধীরা ভোটকেন্দ্রে এলে মাঠের পরিস্থিতি আর অনুকূলে থাকবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ওই সময় সার্বিক পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এ ছাড়া যেকোনো সময় পরিবেশ বদলে যেতে পারে। তাই চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য রোববার রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ নয়া দিগন্তকে বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা আজকে আওয়ামী লীগকে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে এনে দিয়েছে। সারা দেশে নৌকার জোয়ার বইছে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে- এটি দেশের প্রত্যাশা এবং সেটিই বিশ্বাস করে। তবে নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতার ছক আছে। এটি মোকাবেলা করতে আমাদের ভোটের দিন সজাগ-সতর্ক থাকতে হবে।

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ভোটের মাত্র এক দিন আগেও ভোটের মাঠে বিএনপি অস্তিত্বহীন। জনগণ তাদের পাশে নেই। সরকারের উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে জনগণ নৌকার পক্ষে একাট্টা হয়েছে। অন্য দিকে ভোটের মাঠ ছেড়ে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিরা নাশকতার ছক তৈরি করছে। তাদের সেই ছকও উড়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বাগতম

আপনাদের অনুপ্রেরণায় আমাদের পথচলা

অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ সারদিন এর সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

shares