এক স্বপ্নিল প্রভাতের প্রত্যাশায়

সেনা মোতায়েনের পরও আশা-নিরাশার দোলাচলেই আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো নিজেদের নির্বাচনী প্রস্তুতি শেষ করেছে। কিন্তু তা কারো জন্যই স্বস্তিদায়ক হয়নি। এই নির্বাচনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণকে কেউ কেউ স্তালিনগ্রাদের প্রতিরোধ যুদ্ধের সাথে তুলনা করছেন। যদিও স্তালিনগ্রাদের প্রেক্ষাপট ও আবহ আমাদের নির্বাচন যুদ্ধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কথা ঠিক, নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্যই হয়েছে বলা যায়। স্তালিনগ্রাদে সোভিয়েত বাহিনীর ক্ষেত্রেও তেমনটিই হয়েছিল।

কারণ, জার্মান বাহিনী একে একে সোভিয়েতের অনেক ভূখণ্ড দখল করে নেয় এবং শেষ পর্যন্ত নাৎসিবাহিনী স্তালিনগ্রাদেও আক্রমণ করে বসে। তাই অস্তিত্বের প্রশ্নেই লালবাহিনী জার্মান বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। শেষ পর্যন্ত জার্মানির সিক্সথ আর্মিকে ফাঁদে ফেলে সোভিয়েত সেনাবাহিনী যুদ্ধে জয়লাভ করে। প্রেক্ষাপট বিবেচনায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিরোধী দলের স্তালিনগ্রাদের প্রতিরোধের সাথে তুলনা করছেন কেউ কেউ। যদিও এই লড়াই হবে ব্যালটের।

এবারের ‘ব্যালট সমরে’ যে সরকার পক্ষ খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থানে তা-ও মনে হচ্ছে না। তাই তারা নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে ভিন্নতর অনুষঙ্গ ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তা অস্বীকার করারও সুযোগ থাকছে না। অভিযোগ উঠেছে, সরকার বিদেশী নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ভিসা দিচ্ছে না। বিষয়টি সবাই সন্দেহের চোখে দেখছে। মূলত সরকার পক্ষ বাস্তিল দুর্গ রক্ষার লড়াইয়ের মতোই গুরুত্ব দিচ্ছে এই নির্বাচনকে। ফরাসি সম্রাট লুই বাস্তিল দুর্গ রক্ষাকেই তার সাম্রাজ্য রক্ষার জন্য প্রধান অনুষঙ্গ মনে করেছিলেন। ক্ষমতাসীনেরা বোধহয় ফরাসি সম্রাটেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করতে যাচ্ছে। সঙ্গত কারণেই নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকার কথা তা কিন্তু দেখা যাচ্ছে না। কারণ, একটা অনাকাক্সিক্ষত আতঙ্ক তাদের মধ্যে সক্রিয় রয়েছে। কেন এই আতঙ্ক তার একটা জবাব দেয়ার চেষ্টা করেছেন বর্নার্ড শ। তার মতে, ‘নির্বাচন যুদ্ধের মতোই ভয়াবহ। প্রথমটিতে মানুষ রক্তস্নাত হয় আর দ্বিতীয়টিতে কাদায় মাখামাখি হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়।’ আগামীকালের নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের উৎসাহে ছন্দপতনের কারণ বোধহয় সেখানেই।

তারপরও নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে কি না সেই শঙ্কা শেষ পর্যন্তও কেটে যায়নি। অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বিষয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশন অনেক ঢাকঢোল পেটালেও সবই অন্তঃসারশূন্য মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনে জনমতের প্রতিফলন ঘটে কি না সে প্রশ্নও এখন সবার মুখে মুখে। কারণ, নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন যে একপেশে আচরণ করেছে বা করছে তাতে এমন সন্দেহ করা একেবারে অস্বাভাবিক নয়। মূলত এখনো নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতার পরীক্ষায় পুরোপুরি উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

বস্তুত এবারের নির্বাচন জনপ্রত্যাশা মতো উৎসবমুখর হয় কি না তা নিয়ে যে সন্দেহ-সংশয় ছিল তা নিরসন করতে পারেনি সরকার, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও একজন সিনিয়র নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি তার সাথে যুক্ত হয়েছে নতুন অনুষঙ্গ। নির্বাচনী সহিংসতাকে আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী পক্ষের সঙ্ঘাতকে বিয়ে বাড়ির ঝগড়ার সাথে তুলনা করা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে। ‘ভোট চুরিও আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ’ নিকট ভবিষ্যতে এমন কথা শোনা গেলেও কেউ আশ্চর্য হবে না। কারণ, আমাদের দেশের এক শ্রেণীর দায়িত্বশীলদের এমন দায়িত্বহীন মন্তব্যই এখন আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে।

বিরোধী দল নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই বলে বরাবরই দাবি করে আসছে। কূটনীতিকদের বক্তব্যও সে দাবিকে প্রায় পুরোপুরি সমর্থন করছে। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম বাংলাদেশে নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ নেই বলে মন্তব্য করেছেন। অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে ইতোমধ্যেই জাতিসঙ্ঘ ও যুক্তরাজ্য সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও অনুরূপ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রচারকাজে বাধাদান, হামলা, মামলা ও গণগ্রেফতারের অভিযোগ তো অতি পুরনো। বাছাইপর্ব শেষ হওয়ার পরও অনেক বিরোধীদলীয় প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল কেউই ভালো চোখে দেখছে না। তারা অনেক বিরোধীদলীয় প্রার্র্থী গ্রেফতারের ঘটনা নেতিবাচক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। অনেক প্রার্থী গ্রেফতার এড়াতে গা-ঢাকাও দিয়েছেন। সরকারি দল প্রতিনিয়ত আচরণবিধি ভঙ্গ করলেও নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন ‘চক্ষুষ্মান অন্ধ’র মতোই আচরণ করছে বলে মনে হচ্ছে। তাই বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশা করা ‘অরণ্যে রোদন’ বলেই মনে করা হচ্ছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশেই এখন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। সেনা মোতায়েনের পর পরিস্থিতির উন্নতি হলেও তা এখনো কাক্সিক্ষত পর্যায়ে পৌঁছেনি। বিষয়টি দেশীয় গণ্ডি পেরিয়ে এখন তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও স্থান করে নিয়েছে। সম্প্রতি বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে ৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনের প্রচারাভিযান শুরু হওয়ার সাথে সাথেই বিরোধী দলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের ওপর প্রতিপক্ষের ব্যাপক হামলার ঘটনা ঘটছে।’ একজন সাবেক নির্বাচন কমিশনারকে উদ্ধৃত করে বিবিসি বলেছে, ‘মনে হচ্ছে পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।’

তার বরাতে আরো বলা হয়, ‘১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত যে ক’টি নির্বাচন হয়েছে- এর মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।’ ফলে সার্বিক পরিস্থিতি যে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অনুকূল নয় তা খুবই স্পষ্ট। কিন্তু বিরোধী দল হয়তো মনে করছে, ‘হাত টান’ সরকারের পক্ষে সব কিছুই হাতিয়ে নেয়া সম্ভব হবে না। সেনা নামানোর পর সে স্বপ্ন বাস্তব রূপ পাবে বলেই তারা আশায় বুক বেঁধেছে। ব্রায়ান ডাইসনের ভাষায়, ‘স্বপ্নপূরণই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয়। তাই বলে, স্বপ্নকে ত্যাগ করে নয়, তাকে সাথে নিয়ে চলো। স্বপ্ন ছাড়া জীবন অর্থহীন।’ বিরোধীরা বোধহয় ব্রায়ানেরই ভাবশিষ্য বনে গেছেন ইতোমধ্যে।

স্বাধীনতার পর দেশে ১০টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে শুধু কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে যেসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেগুলো অপেক্ষাকৃত গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ হয়েছিল বলে মনে করা হয়। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে যত নির্বাচন হয়েছে তার কোনোটাই গণতান্ত্রিক মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। আর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিরোধী দল অংশ না নেয়ায় ক্ষমতাসীনেরা বিনা বাধায় দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হিসেবে অবির্ভূত হয়েছিল। সে নির্বাচনে বিরোধী দলের নির্বাচন বর্জনের যৌক্তিকতা প্রমাণ হচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘটনাপ্রবাহে। আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাতাবরণে যে দলীয় সরকারের অধীনে কোনোভাবেই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় তা আবারো সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে পক্ষবিশেষে এই বাস্তবতাকে স্বীকার করা হচ্ছে না। আর সেটিই হচ্ছে চলমান সঙ্কটের অন্যতম কারণ।

আসলে আমাদের দেশের রাজনীতির কক্ষচ্যুতির কারণেই প্রচলিত রাজনীতিতে নানা ধরনের উপসর্গ স্থান করে নিয়েছে। এ কথা তিক্ত হলেও সত্য, দেশের চলমান রাজনীতি এখন আর কল্যাণমুখী নেই, বরং রাজনীতি এখন শ্রেণিবিশেষের আত্মবিনোদনের উন্নত মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর তা আরো গতি পেয়েছে। মূলত এই প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসনের গোড়াপত্তন হয় এবং এখনো তা অব্যাহত আছে। এখন তা স্থায়িত্ব দেয়ারই চেষ্টা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ।

এ কথা বলতে দ্বিধা নেই, সরকারের পরিকল্পিত বিরাজনীতিকরণের কারণেই বিরোধী দলগুলো এখন ধ্বংস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে। বিরোধী শক্তির প্রদীপ একেবারে নিভে না গেলেও তারা যে শক্তিহীন হয়ে পড়েছে তা সর্বসাম্প্রতিক বিরোধীদলীয় কর্মতৎপরতায় উপলব্ধি করা যায়। সরকারের অগণতান্ত্রিক মনোভাব ও দীর্ঘ কর্তৃত্ববাদী শাসনের কারণেই বিরোধী দলগুলো সব দিক থেকেই কোণঠাসা। তাই তারা নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়ার জন্যই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক অসম যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। এ বিষয়ে মহলবিশেষে বিরোধী দলের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করা হলেও এ ছাড়া তাদের কাছে কোনো বিকল্প ছিল না।

যেমন বিকল্প ছিল না স্তালিনগ্রাদ যুদ্ধে সোভিয়েত বাহিনীর ক্ষেত্রে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যেমন হিটলারের জার্মান বাহিনী একের পর এক সোভিয়েত জনপদ দখলের পর স্তালিনগ্রাদে এসে লাল ফৌজের প্রবল ও পরাক্রমী প্রতিরোধের মুখে পড়েছিল। ঠিক তেমনিভাবে দুই মেয়াদে সরকার নিরঙ্কুশ ও একচ্ছত্র ক্ষমতাচর্চার পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসে বিরোধীদের বেশ প্রতিরোধের মুখেই পড়েছে বলেই দৃশ্যত মনে হচ্ছে। বিরোধী পক্ষ সব কিছু হারিয়ে এবারের নির্বাচনকেই অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম বলে মনে করছে। এ বিষয়ে বিরোধী দলের সম্ভাবনা যাই হোক না কেন, তারা সরকারকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে প্রায় অবরুদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছে। সাড়ে পাঁচ মাস অবরুদ্ধ থাকার পর জার্মান বাহিনী যেমন লাল ফৌজের কাছে চূড়ান্তভাবে পর্যুদস্ত হয়েছিল, ঠিক তেমনিভাবে সরকার গণরায়ে হেরে যাবে বলে বিরোধী মহল আশায় বুক বেঁধেছে। স্তালিনগ্রাদের মহাবীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ যেমন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল, ঠিক তেমনিভাবে এবারের ব্যালট যুদ্ধ আমাদের জাতীয় রাজনীতির খোলনলচেও পাল্টে দিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে, যা ফরাসি বিপ্লব ও বাস্তিল দুর্গের পতনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

শাসকগোষ্ঠী যখন অন্যায় ও অনাচারের সব সীমা অতিক্রম করেছিল তখন ফরাসিদের জন্য এই বিপ্লবের কোনো বিকল্প ছিল না। বস্তুত ফরাসি বিপ্লব (১৭৮৯-১৭৯৯) ফরাসি, ইউরোপ ও পশ্চিমা সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ফরাসি বিপ্লব পশ্চিমা গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি জটিল সন্ধিক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যার মাধ্যমে পশ্চিমা সভ্যতা নিরঙ্কুশ রাজনীতি ও অভিজাততন্ত্র থেকে নাগরিকতাবাদের যুগে পদার্পণ করে। ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই ফ্রান্সের বাস্তিলে এক গণবিক্ষোভে বাস্তিল দুর্গের পতনের মধ্য দিয়ে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়। এই বিপ্লব ছিল তদানীন্তন ফ্রান্সের শত শত বছর ধরে নির্যাতিত ও বঞ্চিত সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধী দল নির্বিঘেœ তাদের নির্বাচনী কার্যক্রম চালাতে পারেনি। নির্বাচনে ভোট প্রার্থনার চেয়ে তাদেরকে সব সময় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে তটস্থ থাকতে হয়েছে। সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়েও প্রশ্নটি বেশ জোরালো। সেনা মোতায়েন হলেও তা বিলম্বিত হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন যদি তাদের আগের অবস্থান পরিবর্তন না করে তাহলে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার বিষয়টি প্রশ্নাতীত হবে না। কারণ, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সহযোগিতা না করলে শুধু সেনাবাহিনীর পক্ষে কিছুই কারার থাকবে না।

তবে আশাবাদী মানুষ এখন আশাহত হচ্ছেন না। তারা আশা করছেন সরকার, বিরোধী পক্ষ, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে একযোগে কাজ করবে। সেনাবাহিনী হবে সহায়ক শক্তি। স্তালিনগ্রাদের প্রতিরোধ বা বাস্তিল দুর্গের পতন নয়, বরং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই এক স্বপ্নিল প্রভাতের অভ্যুদয় ঘটবে, এমন প্রত্যাশা শান্তিকামী ও গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বাগতম

আপনাদের অনুপ্রেরণায় আমাদের পথচলা

অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ সারদিন এর সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

shares