‘আপনাদের বিরুদ্ধে তো মামলা নেই, কেন্দ্রে যাবেন’

‘র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথবাহিনী বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আমার বাড়ি ঘেরাও করেছে। আমার বড় ভাইয়ের বাড়ির গেট ও তালা ভেঙ্গে তাণ্ডব চালিয়েছে। যাতে আমার বাড়িতে নির্বাচনী এজেণ্ট ও কর্মীরা আসতে না পারেন সেজন্য ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।’ গাজীপুর-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের ঐক্যফ্রণ্ট প্রার্থী সালাহউদ্দিন সরকার শুক্রবার গ্রেফতার এড়াতে তার বড় ভাই মরহুম সিরাজ উদ্দিন সরকারের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন ডেকে এই অভিযোগ করেন। শেষ মুহূর্তে আর কোন নির্বাচনী এজেন্ট ও দলীয় নেতাকর্মীকে গ্রেফতার না করার জন্যও তিনি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।

তিনি ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে বলেন, ‘মামলা-হামলায় আমাদের কর্মীরা ঘর ছাড়া। আমাকেও আট দিন ধরে প্রচারণা থেকে দূরে রাখা হয়েছে। আমাকে সুযোগ দিলে প্রত্যেক ভোটারের বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। আপনাদের বিরুদ্ধে যেহেতু কোন মামলা নেই; কাজেই আপনাদের কেন্দ্রে যেতে বাধা নাই।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার গণসংযোগে জনতার ব্যাপক সাড়া দেখে ক্ষমতাসীনরা আদালতকে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে আমার সাড়ে তিন লাখ পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে। লেফলেট বিতরণে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২৫-৩০টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমার সাথে গণসংযোগসহ সরাসরি নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের প্রত্যেককে আসামী করা হয়েছে। কর্মীরা যাতে কেন্দ্রে যেতে না পারেন সেজন্য বাড়িতে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা হানা দিচ্ছে।’

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘ভোটারদেরকে নিবিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে দিন, তাতে ফলাফল যাই হোক আমরা মেনে নেব। আমি গ্রেফতার হলেও সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে কর্মীরা নির্বাচন চালিয়ে যাবে।’

তরুণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে সালাহউদ্দিন সরকার বলেন, তরুনরা এদেশের ভবিষ্যত। আগামী দিন সুন্দর বাংলাদেশ হবে নাকি বর্তমানের বাংলাদেশ হবে তরুন প্রজন্মকেই সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কাজেই যারা এবার নতুন ভোটার হয়েছেন এবং বিগত দশ বছর ধরে যেসব তরুণ ভোটাররা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে সেই তরুন ভোটাররা যাতে এবারও ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত না হয় নির্বাচন কমিশনকে সেই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, ঐক্যফ্রণ্ট প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. সরাফত হোসেন, গাজীপুর মহানগর কৃষকদলের সভাপতি সাবেক কাউন্সিলর মো. জাহাঙ্গীর আলম, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক কাউন্সিলর শেখ মো. আলেক, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. ইব্রাহিম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বাগতম

আপনাদের অনুপ্রেরণায় আমাদের পথচলা

অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ সারদিন এর সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

shares